যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতাকে কথা-সুরে সাজিয়ে গান বানাতেন শান্তনু বিশ্বাস। তার গানে উঠে আসতো মানুষ, মানবতা, চলমান জীবনের আনন্দ-বিষাদের নানা দিক। যার ফলে অন্য অনেকের গানের ভীড়ে শান্তনুর গান চিহ্নিত করা যায় আলাদাভাবে।

গুণী এই শিল্পী প্রয়াত হয়েছেন গেল জুলাইতে। তবে তার অসামান্য সৃষ্টিকর্ম রেখে গেছেন সবার জন্য। তার সৃষ্টি করা ৮টি গান নিয়ে সাজানো হয়েছে একটি সংকলন। সেই অ্যালবামের নাম দেয়া হয়েছে ‘স্মৃতির শহরে’। আজ শনিবার মোড়ক উন্মোচনের মাধ্যমে প্রকাশিত হলো প্রয়াত শান্তনু বিশ্বাসের ‘স্মৃতির শহরে’ অ্যালবামটি। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী বাপ্পা মজুমদার, প্রয়াত শান্তনু বিশ্বাসের স্ত্রী শুভ্রা বিশ্বাস, সাগর লোহানী এবং জি সিরিজের কর্ণধার নাজমুল হক ভূঁইয়াসহ আরো অনেকে।

ইতিমধ্যে গানের অ্যালবামটি ইউটিউবে প্রকাশ করা হয়ে গিয়েছে।  এটি রয়েছে দেশের প্রথম সারির অডিও-ভিডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জি সিরিজের ইউটিউব চ্যানেলে।

‘স্মৃতির শহরে’ সংকলনের সঙ্গীত আয়োজন করেছেন সুদীপ্ত সাহা। এর প্রতিটি গানই শান্তনু বিশ্বাসের লেখা ও সুর করা। আর গেয়েছেনও তিনি নিজেই।

এই সংকলন মূলত ভালোবাসার গানেই তৈরি করা হয়েছে। ভালোবাসা নিয়ে শান্তনু বিশ্বাসের মন্তব্য ছিল এরকম- ‘ভালোবাসা, এই বোধ ও অনুভবের একটা অবাধ উন্মোচন হয়তো থাকে। যৌথজীবনের শুরুটা একটা অন্তঃশায়ী টান থেকে জন্ম নেয় যেখানে আগুনে বা অসুখে দু’জনকে পুড়তে হয় পোড়ার সমুজ্জ্বল আনন্দে।’

‘স্মৃতির শহরে’ সংকলনে রয়েছে- ‘স্মৃতির শহরে’, ‘সময়ের চাকাটা’, ‘আমার সকাল বেলার পাখি’, ‘কৃষ্ণকলি’, ‘এমন দিনে তারে’, ‘ঢেউ তোলো’, ‘দেখছি আর ভাবছি’ ও ‘বললে আমি যাই’ গানগুলো।

শান্তনু বিশ্বাসের জন্ম ১৯৫৪ সালের ২৫ অক্টোবর। পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রামে সেন্ট প্লাসিড স্কুলে। সেখানকার শিক্ষাজীবনের শেষ পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায় এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কনিষ্ঠ শিল্পী হিসেবে তিনি গান গেয়েছেন।

সঙ্গীত ও নাটকের প্রতি শান্তনুর আগ্রহ স্কুল জীবন থেকেই। নিভৃতে কাজ করে যাওয়া শান্তনু বিশ্বাস নাটকের সাথে গানেও জড়িয়ে নিয়েছিলেন নিজেকে। এক এক করে গানের মোট সাতটি অ্যালবামে তিনি নিজেকে প্রকাশ করেছেন। গান রচনা, সুরারোপ করা এবং সেই গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে এবং দেশে-বিদেশে বহুবার তিনি মঞ্চে উঠেছেন নিজের গানকে সঙ্গে করে।

১৯৭৪ সাল থেকে প্রত্যক্ষভাবে থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন শান্তনু বিশ্বাস। গণায়ন নাট্য সম্প্রদায় থেকে শুরু, অঙ্গন থিয়েটার ইউনিট এবং তারপরে কালপুরুষ নাট্য সম্প্রদায়। অভিনয় দিয়ে শুরু তারপর নাটক রচনা, নাটকের গান ও আবহ নির্মাণ ও নাট্য নির্দেশনা। সঙ্গে নাট্যপত্র ‘প্রসেনিয়াম’-এর সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছেন শান্তনু বিশ্বাস।

চলতি বছরের ১২ জুলাই শান্তনু বিশ্বাস প্রয়াত হন এবং তার ইচ্ছে অনুযায়ী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে তার মরণোত্তর দেহদানের প্রক্রিয়া কার্যকর করা হয়।