অমর একুশে বইমেলা ২০২০- এ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তরুণ কবি লুনা আহমেদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নগ্ন ক্ষুধা’। বইটি প্রকাশ করছে কিংবদন্তি প্রকাশন। মেলা ছাড়াও বইটি পাওয়া যাবে রকমারি.কমে

‘নগ্ন ক্ষুধা’ কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে কবি বলেছেন, ‘নগ্ন ক্ষুধা একটা আগুন। এটা আসলে প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। বইটা হবে একটা সমগ্র মানবজীবন নিয়েই। একজন পাঠক যখন বইটা পড়বে, তখন তার মনে হবে সে একটা রেখা অতিক্রম করছে, একটা জার্নির মতোন। পড়া শেষে পৌঁছে যাবে কোহেকাফে। একটা তীব্র যন্ত্রণা, কষ্ট, বেদনা পেড়িয়ে যে জীবন- সে জীবনের কথাই বলা হয়েছে। বইটা একটা বাগান। যাতে কবিতাগুলো ফুল। ফুলগুলো তীব্র ঘ্রাণ ছড়াবে পাঠক মনে বলেই আমার বিশ্বাস।’

কেন বইটি পাঠক পড়বে জানতে চাইলে কবি লুনা আহমেদ জানান, ‘আমি চাই পাঠক আমার সমালোচনা করুক। শুধু পাঠক নয়, কবি বন্ধুরাও করুক। কেননা আমি মরে গেলে, কবি বন্ধুগন কবিতায় শোক জানাবে। দু’দিন তিন দিন পর লেখালেখিতে তুলে ধরবে আমার দোষ ত্রুটি। লেখায় কী কী ভুল ছিলো, কী লিখেছিলাম, সবকিছু, এমনকি বাদ যাবো না আমি। এটা কবিদের স্বভাব। তাদের এই স্বভাব আমার জীবিতকালেই প্রস্ফুটিত হোক।’

সমালোচনা লুনা উপভোগ করেন জানিয়ে বলেছেন, ‘আলোচনা সমালোচনা আমি উপভোগ করি। আমার মনে হয় একজন লেখকের আসলে তাই ই করা উচিত। সমালোচনাকে দেখা উচিত আয়না হিসেবে। আয়নায় সে প্রতিবিম্ব দেখতে পায়, সমালোচনায় দেখা যায় নিজেকে। তার পদচারণা, তার সফলতা, তার ব্যর্থতা এসবই তো তুলে ধরে মানুষ। মাঝেমধ্যে কেউ কেউ নেতিবাচক কথাও বলে। এটা দেখে মন খারাপ করতে নেই। হাসিমুখে নেওয়া উচিত। কেননা, ধাক্কা খেয়ে,হোঁচট খেয়ে উঠে দাঁড়ানোকেই আমি জীবন বলি। যে জীবিত দেহে এবং মনে- সে বাধাকে বাধা হিসেবে না দেখে সামনে এগিয়ে চলে। আমার একটা কবিতায় আমি অবশ্য বলেছি সে কথা। অস্তিত্ব কবিতার পঙক্তিতে আমি লিখেছি-

বাধাকে বাধা ভেবে চুপচাপ ঘুমিয়ে থাকলে
আজ পৃথিবীতে কোনো বৃক্ষ জন্মাতো না তারা
কঠিন মাটি ভেদ করে উপরে ওঠে।’

আজকের পত্রিকা/সিফাত