টেলিভিশন শিল্পী সংঘের সংকট ও উন্নয়ন নিয়ে আকজের পত্রিকার সাথে ফোন আলাপে শহিদুল আলম সাচ্চু। ছবি : সংগৃহীত

টেলিভিশন অভিনয় শিল্পী সংঘ ২০১৭ এর মেয়াদ শেষ হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে। গেল ২২ ফেব্রুয়ারি সংগঠনটির বার্ষিক সাধারণ সভায় মার্চ মাসে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও কার্যনির্বাহী সদস্যরা নির্বাচনের তারিখ এখনো নির্ধারণ করতে পারেননি। আজ ২৫ মার্চ সংগঠনটির উচ্চ পর্যায়ের সদস্যরা নির্বাচনের তারিখ ও নীতি নির্ধারণ প্রণয়নে বিকেল ৩ টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বৈঠকে বসবেন। এসব বিষয় নিয়ে সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি শহিদুল আলম সাচ্চু আজকের পত্রিকার মুখোমুখি হয়েছেন। কথা বলেছেন টেলিভিশন শিল্পী সংঘের সংকট ও উন্নয়ন নিয়ে।

আজকের পত্রিকা: ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত নির্বাচন হচ্ছে না কেন?
শহিদুল আলম সাচ্চু: আমরা দুই বার সবাইকে নিয়ে বসেছি। আজ আবার আমরা বৈঠকে বসে তারিখ ও নীতিমালা নির্ধারণ করবো। বিকেলের পর জানতে পারবেন পরবর্তী পরিকল্পনার কথা।

আজকের পত্রিকা: মেয়াদ শেষে শিল্পীদের জন্য কতটুকু করতে পেরেছেন বলে মনে হয়?
শহিদুল আলম সাচ্চু: দেখুন এই প্রশ্নের উত্তর কয়েক বাক্যে দেয়া সম্ভব নয়। তবে আমরা যা যা করেছি সবার নজরে এসেছে।

আজকের পত্রিকা: টেলিভিশন শিল্পের বড় সংকট কী মনে হয় আপনার কাছে?
শহিদুল আলম সাচ্চু: গুণগত মান। নির্মাতা যারা আছেন তাঁদের জন্য আমার একটাই দাবী তারা যেন সময় উপযোগী গল্প নিয়ে নাটক বানায়। এখন যারা অভিনয়ের সাথে জড়িত হচ্ছেন তাঁদের আরো কষ্ট করতে হবে। হুট করে ব্যাপক পরিচিতি আর পয়সা কামানোর চিন্তা করে কাজের গুণগত মান খারাপ করলে চলবে না। একটা সময় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আমাদের নাটক গুণগত মানে সবার উপরে ছিল। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবং নিজেকে শিল্পী হিসেবে গড়তে পারলেই এই সংকট কাটবে বলে আমার মনে হয়।

আজকের পত্রিকা: গুণগত মানের কারণেই কী শিল্পীদের কর্ম পরিধি দিন দিন ছোট হচ্ছে?
শহিদুল আলম সাচ্চু: নাটকের নির্মাতারা কম পয়সায় সিনেমা বানানোর জন্য তিন-চার জন অভিনেতা-অভিনেত্রী নিয়ে একটি নাটক শেষ করছেন। যার কারণে অনেক শিল্পীরা কাজ পাচ্ছেন না। কাজের মানও ভালো হচ্ছে না। আর এতে করেই শিল্পীদের হাতে কাজ থাকছে না।

আজকের পত্রিকা: টিআরপি পদ্ধতির অগ্রগতি কতটুকু?
শহিদুল আলম সাচ্চু: টিআরপি নিয়ে আমাদের এখন তেমন চিন্তা নেই। আমাদের যা করতে হবে সেটা হলো ‘পে চ্যানেল’ তৈরি করা। পে চ্যানেল তৈরি করতে পারলে টেলিভিশন শিল্পীদের অর্ধেকের বেশি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমরা সরকারের কাছে দাবী করেছি আমাদের একটি পে চ্যানেল খুব শিগগিরই যেন তৈরি করে দেন।

আজকের পত্রিকা: ‘অ্যাক্টর ওয়েল ফেয়ার ফান্ড’ সম্পর্কে কিছু বলুন।
শহিদুল আলম সাচ্চু: আমাদের নিজেদের উদ্যোগে এই ফান্ড করেছি। ব্যক্তিগত আগ্রহে আমরা বেশ কিছু টাকা জমিয়েছি এবং এটা অব্যাহত রয়েছে। নিজেদের বিপদে তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য এই ফান্ড আমাদের কাজে আসবে। আমাদের সংগঠনে প্রায় ৯০০ জন শিল্পী আছেন। তাদের মধ্যে কাজ পাচ্ছেন মাত্র ৬০ জন শিল্পী। প্রবীণ ২০ জন শিল্পী আছেন যারা কাজ করতে পারেন না। তালিকাভূক্ত সেই প্রবীণ শিল্পীদের শিল্পী সংঘের পক্ষ থেকে একটি কার্ড করে দিয়েছি। তাঁরা ‘স্বপ্ন সুপার শপে’ প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা বাজার করার সুবিধা পাবেন সম্পূর্ণ ফ্রি’তে। আমরা মিনা বাজারের সাথেও কথা বলছি এই সুবিধা নেয়ার জন্য। তাছাড়া শিল্পীদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবা দিতে রাজধানীকে চারটি জোনে ভাগ করেছি। এবং সেই জোনগুলোতে অবস্থিত ভালো হাসপাতালগুলোর সাথে আমরা কথা বলেছি। যাতে একটি নির্দিষ্ট ছাড়ে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে পূর্বভাগে বসবাসরত শিল্পীরা এই সহায়তা পাচ্ছেন। তাছাড়া একটি ‘টেলিভিশন সিটি’ করার জন্য আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি। এই শিল্পের চর্চা ও বিকাশে কাজ করবে এই সিটি।

আজকের পত্রিকা: নিজস্ব অফিস আছে আপনাদের ?
শহিদুল আলম সাচ্চু: আমাদের বর্তমান অফিস নিকেতনে। আমাদের নিজস্ব একটি অফিসও দরকার। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করবো আমাদের নিজস্ব একটি অফিসের জন্য। এই সরকার সংস্কৃতিমনা সরকার। নিশ্চয়ই সরকার এই শিল্পকে রক্ষা ও বিকাশের জন্য সর্বাত্বক সহযোগিতা করবেন।

আজকের পত্রিকা/এসএ/এমআরএস