কিছুদিন আগে হঠাতই পেয়াজের দাম বেড়ে যায়। সাতক্ষীরার বাজারে সর্বোচ্চ ২৭০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি পেয়াজ। তবে বর্তমানে সে তুলনায় পেয়াজের দাম অনেকটা কম।

সাতক্ষীরার খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতিকেজি দেশী পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। আর মিশর ও চায়না পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকায়।

তবে সাতক্ষীরার বিভিনś গ্রামাঞ্চলে বর্তমানে পেয়াজ চুরির হিড়িক পড়েছে। বেশী পেয়াজ চুরির ঘটনা ঘটছে কলারোয়া উপজেলায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পেয়াজ চুরি ঠেকাতে সামাজিক প্রতিরোধের বিকল্প নেই।

কলারোয়া উপজেলার দিগং গ্রামের কৃষকরা ফসলের মাঠ পাহারা দিচ্ছেন। প্রতিরাতেই পেয়াজ চুরির ঘটনা ঘটছে। তবে চোর শনাক্ত করা যাচ্ছে না। পেয়াজ চুরি ঠেকাতে রাতে ক্ষেতে পাহারা দিচ্ছেন দিগং গ্রামের আশরাফুল ইসলাম।

তিনি জানান, এলাকায় পেয়াজ চুরির যেন হিড়িক পড়েছে। পুরো ফসলী মাঠে রাতজুড়ে সব কৃষকের পাহারা দেওয়া সম্ভব হয় না। যেদিকে পাহারা দেওয়া হয় চোরেরা অন্যদিক থেকে চুরি করে। প্রতি রাতেই ঘটছে এমন ঘটনা।

কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার এজাহার আলী জানান, ইউনিয়ন পরিষদের দফাদারদের সকলেই সমীহ করে। সেই দফাদার হয়েও আমার পেয়াজ ক্ষেত রেহাই পায়নি। ক্ষেতের সব পেয়াজ চুরি করে নিয়ে গেছে।

অন্যরা এখন পেয়াজ ক্ষেত পাহারা দিচ্ছে। এমন ঘটনা আমি কখনো আগে দেখিনি। চুরির কারণে অনেক কৃষক অপরিপক্ক পেয়াজ ক্ষেত থেকে তুলে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

ওই এলাকার পেয়াজ চাষী আবুল হোসেন বলেন, দাম বেড়ে যাওয়ার পর পেয়াজের বীজের দামও বেড়ে যায়। বেশী খরচ করে পেয়াজ চাষ করে বর্তমানে চুরির ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। এখন চুরি ঠেকাতে প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সাতক্ষীরা সুলতানপুর এলাকার বড় বাজারের ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, কিছুদিন আগের তুলনায় বর্তমানে পেয়াজের দাম কমেছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশী পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। মিশর ও চায়না থেকে আমদানিকৃত পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকায়।

পেয়াজ চুরির ঘটনার বিষয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ প্রশাসনের বিশেষ শাখার সহকারি পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, বিভিন্নস্থানে ক্ষেত থেকে পেয়াজ চুরির ঘটনা শুনেছি। চুরি ঠেকাতে সম্মিলিত প্রতিরোধের উদ্যোগ নেয়া হবে।

এছাড়া সামাজিকভাবে প্রতিরোধের বিকল্প নেই। তবে চোরদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।