সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য পেট পরিস্কার রাখা খুব জরুরী। ছবি : সংগৃহীত

সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য পেট পরিস্কার রাখা খুব জরুরী। পেটে গোলমাল, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদির প্রভাব আমাদের দৈনন্দিন কাজে-কর্মেও পড়ে থাকে। কারণ এসবের কারণে মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে, কাজে মন দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। মজার মজার খাবার খেলেন। খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুরও তুললেন। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখনই যখন হজম ঠিকভাবে হয় না। কিংবা পেটে গোলমাল বাঁধে। পেট পরিষ্কার না হলে নষ্ট হয় খাওয়ার রুচি। তার প্রভাব পড়ে পুরো শরীরের ওপরেই। জেনে নিন পেট পরিষ্কার রাখার সহজ ৭ উপায়-

লেবু

এতে উপস্থিত লেমোনাস, হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি পেট পরিষ্কার রাখতে দারুণ কাজে আসে। তাই কখনও যদি দেখেন ১-২ দিন ধরে পটি ঠিক মতো হচ্ছে না তাহলে ঝটপট কয়েক গ্লাস লেবুর রস খেয়ে নেবেন। দেখবেন সঙ্গে সঙ্গে ফল পাবেন। প্রসঙ্গত, গরম জলে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে বেশি উপকার পাবেন।

মধু

প্রতিদিন মধু খাওয়ার অভ্যাস করুন। তাহলেই দেখবেন কনস্টিপেশন এবং পটি পরিষ্কার না হাওয়ার মতো সমস্যা একেবারে কমে যাবে। আসলে এই প্রকৃতিক উপাদানটিতে এমন কিছু রয়েছে, যা জোলাপের মতো কাজ করে। ফলে মধু খাওয়া মাত্র পটি পরিষ্কার হতে শুরু করে দেয়। এক্ষেত্রে দিনে ৩ বার, এক গ্লাস গরম জলে ১ চামচ করে মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে খেতে হবে।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

পেট পরিষ্কার রাখার প্রথম শর্তই হলো হজমশক্তি ঠিক থাকা। তাই হজমশক্তি ভালো রাখতে প্রচুর পানি পান করুন। প্রতিদিন নিয়ম মেনে ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান করুন। খাদ্য তালিকায় সেসব সবজি ও ফল রাখুন যাতে পানির পরিমাণ বেশি। যেমন লাউ, কাঁচা টমেটো, তরমুজ, পেঁপে, আপেল ইত্যাদি। এ ছাড়া পানি পানের অভ্যাস কয়েক সপ্তাহ ধরে মেনে চললে আপনার পেটের সমস্যা কমে যাবে। পেট একদম পরিষ্কার থাকবে।

ইসবগুল

ইসবগুল পেট পরিষ্কার করতে খুব কার্যকরী। তাই প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ইসবগুল খাওয়ার অভ্যাস করুন। দেখবেন সকাল সকাল পেট হালকা হয়ে যাবে চোখের নিমেষে।

আঙুর

এতে উপস্থিত অদ্রবণীয় ফাইবার, পটি পরিষ্কার হতে সাহায্য করে। তাই বাওয়েল মুভমেন্ট ঠিক না হলেই দিনে হাফ বাটি কাঁচা আঙুর অথবা আঙুরের রস খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এমনটা করলেই দেখবেন সকালগুলো সুন্দর হয়ে উঠবে।

পালং শাক

প্রতিদিন এই শাকটি খেলে দারুন উপকার পাওয়া যায়। তাই যদি কনস্টিপেশনের সমস্যা থাকে তাহলে হয় রান্না করে, নয়তো কাঁচা অবস্থাতেই পালং শাক খাওয়া শুরু করে দিন। দেখবেন অল্প দিনেই কষ্ট কমে যাবে। প্রসঙ্গত, আরেক ভাবে পালং শাককে কাজে লাগানো যেতে পারে। এক গ্লাস জলের সঙ্গে ১ গ্লাস পালং শকের রস দিনে দুবার করে খেলে কনিস্টেপেশনের কোনও নাম গন্ধই থাকে না।

অ্যালোভেরার জুস

অ্যালোভেরার জুস হিসেবে খেলে অন্ত্রে পানির পরিমাণ বেড়ে যায়। অন্ত্রে থাকা পানি মল পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। যদি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হয় তবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অ্যালোভেরার জুস যোগ করুন। অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী শরীরের নানা অংশের জন্য উপকারি। পেটের সাথে সাথে ত্বক, চুলের জন্যও এটি খেতে পারেন।

তুলসি পাতা

সকালে তুলসি গাছের কয়েকটি পাতা চিবিয়ে খালি পেটে খান। এটি আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে এবং হজমশক্তি বাড়াবে।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/