গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে রফতানি বন্ধ করে দেওয়ায় মাস খানিক যাবতই পেঁয়াজের বাজারে আগুন। বিকল্প উৎস হিসেবে ইতোমধ্যে মিয়ানমার, মিসর, চীন, তুরস্ক এমনকি পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব উদ্যোগের ফলে দাম কমে আসবে বলে দাবি জানাচ্ছিলেন খোদ বাণিজ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা।

যদিও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পেঁয়াজের বাজারের এই অস্থিরতাকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ১৩ নভেম্বর বুধবারের চেয়ে ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দেশি পেঁয়াজের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৯০ টাকায়। আর মিয়ানমারের পেঁয়াজ একদিনের ব্যাবধানে ৪০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিশরের বড় বড় আকারের পেঁয়াজ ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের এমন লাগামহীন দামে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। পেঁয়াজের বাজার কারা নিয়ন্ত্রণ করছেন সে প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। মিয়ানমার থেকে ৪২ টাকা দরে পেঁয়াজ কেনার পরেও দেশে কোন অজুহাতে এত দাম- সে প্রশ্নও রাখছেন তারা। তবে বিক্রেতারা দাবি করছেন, চড়া দামে তাদের কিনতে হয় বলেই বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।

সকালে কাওরানবাজারে দেখা গেছে, এক পাল্লা অথবা ৫ কেজি সমান পেঁয়াজের দাম ১০০০ টাকা চাইছেন বিক্রেতারা। বেশির ভাগ ক্রেতা মলিন মুখে এক কেজি পেঁয়াজ কিনে ফিরে যাচ্ছেন। দাম কেন বেড়েছে জানতে চাইলে বেশির ভাগ বিক্রেতাই জানান, বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ নেই। দেশি পেঁয়াজের মজুতও প্রায় শেষ। তার ওপর ঘূর্ণিঝড়ে পেঁয়াজ পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। তাই দাম বেড়েছে।

পেঁয়াজের বাজারের অস্থিরতার বিষয়ে কথা বলার জন্য বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর দফতরে যাওয়া হলে বাণিজ্য সচিব এ বিষয়ে গাণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি। বাণিজ্যমন্ত্রীও এ মুহূর্তে দেশের বাইরে রয়েছেন।

এদিকে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এসে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার পর খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সর্বশেষ প্রতিদিন ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ৩৫টি ট্রাক বসিয়ে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছিল সংস্থাটি। একজন ক্রেতা এক কেজি করে পেঁয়াজ কিনতে পারছিলেন। আর ট্রাক সেলের ডিলার পাচ্ছিলেন প্রতি দিন এক টন করে পেঁয়াজ। অর্থাৎ দিনে একটি ট্রাক থেকে প্রায় এক হাজার পরিবারের পেঁয়াজের চাহিদা পূরণ হচ্ছিল।

তবে চলতি সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার সপ্তাহিক ছুটির কারণে বিক্রি বন্ধ ছিল। রবিবার ছিল সরকারি ছুটি। তাই এই তিন দিন টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ ছিল। তবে সোমবার বিক্রি হয়। এ ছাড়া সরবরাহ ঘাটতির কারণে মঙ্গলবার পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারেনি টিসিবি। তবে গতকাল বুধবার এবং আজ বৃহস্পতিবার আবার পেঁয়াজ বিক্রি করা শুরু করেছে টিসিবি।

আজকের পত্রিকা/সিফাত