পাবনার সাঁথিয়ায় ইতোমধ্যে নির্ধারিত সময়ের আগেই পেঁয়াজ তুলে বাজারে নিয়ে আসতে শুরু করেছেন কৃষকরা। ১৬ নভেম্বর আগাম জাতের এই পেঁয়াজ সাঁথিয়ার করমজা হাটে প্রতি কেজি পাইকারি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। একই দিনে করমজা হাটে প্রায় ২০ মণ নতুন পেঁয়াজ ওঠেছে বলেও জানা গেছে আড়তদারদের সূত্রে।

নতুন পেঁয়াজ ওঠার পর শনিবার থেকেই পুরোনো দেশি পেঁয়াজ প্রতি মণে আগের দিনের তুলনায় প্রায় এক হাজার টাকা কমে বিক্রি হতে দেখা যায়। ১৫ নভেম্বর শুক্রবার একই হাটে প্রতি মণ পুরোনো দেশি পেঁয়াজ ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। কৃষক ও পেঁয়াজের আড়তদারেরা জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে আগাম জাতের পেঁয়াজ পুরোপুরিভাবে বাজারে আসতে শুরু করবে। ফলে দামও অনেকটা কমে যাবে।

সাঁথিয়ায় প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে কৃষকেরা আগাম জাতের পেঁয়াজ (মূলকাটা) লাগানো শুরু করেন। এবার ওই সময়ে যে সব কৃষক পেঁয়াজ লাগিয়েছিলেন, তাদের বেশির ভাগেরই লাগানো পেঁয়াজ টানা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এরপর অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে কৃষকেরা আবারও মূলকাটা পদ্ধতির পেঁয়াজের আবাদ করেন। কিন্তু সেই পেঁয়াজেরও বড় অংশ অক্টোবরের শেষ সপ্তাহের বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায়। কৃষকেরা আবারও নতুন করে মূলকাটা বা আগাম জাতের পেঁয়াজের আবাদ শুরু করেছেন। সাঁথিয়ায় এবার ১৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে যে পেঁয়াজ লাগানো হয়েছিল, তার মধ্য থেকে প্রায় ১৫ হেক্টর জমির পেঁয়াজ কোনোরকমে টিকে যায়। সেই পেঁয়াজই কৃষকেরা তুলে নিয়ে আসছেন।

এছাড়া শনিবার উত্তরাঞ্চলের অন্যতম পেঁয়াজের হাট সাঁথিয়ার করমজা হাটে সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে প্রায় ২০ মণ নতুন পেঁয়াজ উঠেছে। তবে নতুন পেঁয়াজের তুলনায় পুরোনো দেশি পেঁয়াজের আমদানি ছিল বেশি। নতুন পেঁয়াজ পাইকারি প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে পুরোনো দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৭৫ থেকে ২২৫ টাকায়। এক দিন আগে হাটে নতুন পেঁয়াজ না উঠলেও দেশি পুরোনো পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে।

আজকের পত্রিকা/সিফাত