ভিক্টর ভেসকোভো ট্রেঞ্চের গভীরে গিয়ে দেখতে পেয়েছেন যে সেখানে অসংখ্য প্লাস্টিক পড়ে আছে। প্রতীকি ছবি

প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেঞ্চকে পৃথিবীর গভীরতম স্থান বলা হয়ে থাকে। কারণ এর আনুমানিক গভীরতা সমুদ্রের উপরিতল থেকে ৩৬ হাজার ৭০ ফুট নিচে।

এখন পর্যন্ত কোনো মানুষ এই গভীরতম স্থানের মাটি স্পর্শ করতে পারেনি। তবে সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অভিযাত্রী ভিক্টর ভেসকোভো নিজের সাবমেরিন নিয়ে মারিয়ানা ট্রেঞ্চের ৩৫ হাজার ৮৫৩ ফুট পর্যন্ত গভীরে পৌঁছান।

আজ পর্যন্ত কোনো মানুষই মারিয়ানা ট্রেঞ্চের এতো গভীরে পৌঁছাতে পারেনি।তবে অবাক হওয়ার বিষয় হচ্ছে ভিক্টর ভেসকোভো ট্রেঞ্চের গভীরে গিয়ে দেখতে পেয়েছেন যে, সেখানে অসংখ্য প্লাস্টিক পড়ে আছে। মানুষের আগে ওই জায়গায় প্লাস্টিক পৌঁছে গেছে। সম্পূর্ণ অজানা এ জায়গায় শহরের রাস্তা-ঘাটে পড়ে থাকা প্লাস্টিক দেখে রীতিমত হতাশ হয়েছেন ভিক্টর ভেসকোভো।

এই বিচিত্র অভিজ্ঞতার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ভিক্টর ভেসকভো বলেছেন, ‘মানুষের দূষণ সমুদ্রের গভীরতম বিন্দু স্পর্শ করেছে দেখাটা খুবই হতাশার। তার এই পর্যবেক্ষণে সরকার সমুদ্র দূষণ আইনকে আরও কঠোর করবে বলে ভেসকোভো আশা প্রকাশ করেছেন।

ভেসকোভো মনে করেন, ‘সমুদ্র যে জঞ্জাল ফেলার বিশাল একটি জায়গা নয়, সেটা বোঝার সময় হয়েছে মানুষের’।তিন সপ্তাহ ধরে চলা তার এই অভিযানে তিনি জৈব ও অজৈব বস্তুর নমুনা সংগ্রহ করেছেন।

এদিকে মানুষের তৈরি দূষণের মাত্রা পৃথিবীর এতোটা গভীরে পৌঁছানোয় বিশেষজ্ঞরা বিস্মিত হয়েছেন।

জাতিসংঘের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০ কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রের পানিতে জমা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বর্জ্যের একটি বড় অংশ মাইক্রো প্লাস্টিক, যা সমুদ্রের গভীরে বসবাসরত প্রাণী যেমন তিমি ইত্যাদি গিলে ফেলছে। অসংখ্য মৃত তিমির পাকস্থলীতে মাইক্রো প্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

আজকের পত্রিকা/বিএফকে/এমএইচএস