চা বাগান এলাকায় হাতির আক্রমণে ৩ শ্রমিক আহত

সিলেটের হাতির আক্রমণে আহত হচ্ছেন শ্রমিকরা। হাতির আক্রমণে একেরপর এক হতাহতের ঘটনা ঘটলেও হাতির মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ ব্যবস্থা নিতে করে গড়িমশী করছে।

অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ দিলেও পুলিশের উপস্থিতিতে হয়ে থাকে সমঝোতা (নিকোজিশন) বৈঠক হয়। ফলে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না হাতির বিরুদ্ধে।

গাজীপুরে হাতি শ্রমিক আহতের ঘটনায় হাতির মালিকানা নিয়ে চলছে ধ্রুমজাল। কয়েকদিন থেকেই চলছিল চা বাগানে হাতি আতঙ্ক। সর্বশেষ হাতির আক্রমে শ্রমিক আহতের ঘটনা ঘটলেও খবর পেয়ে বণবিভাগ রয়েছে মালিকানা নিয়ে নজরদারিতে।

স্থানীয় ও বণবিভাগ সূত্রে অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেছে হাতির মালিক কুলাউড়ার কর্মধা এলাকার আব্দুল মানিক তার উন্মত্ত হাতিটি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাউথকে নিয়ে জঙ্গলে কাজ করছেন তবে ব্যর্থ হলে বনবিভাগের সহায়তা নিবেন।

তবে বনবিভাগের পক্ষ থেকে গেল চারদিন আগেই বণ্যপ্রাণী নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের সহযোগিতা চাইলেও আজ অবদি কোন সাড়া পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন বন বিভাগের এধাধিক সূত্র।

এদিকে হাতির আক্রমণে শ্রমিক আহতের খবর পেয়ে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ কুলাউড়া সার্কেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত এডিশন্যাল এসপি সাদেক কাউছার দস্তগীর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেও এই এডিশন্যাল এসপি বললেন ভিন্ন কথা। তিনি জানা এটা পোষা হাতি নয় ভারতীয় হাতির আক্রমনে শ্রমিক আহতের ঘটনা ঘটেছে যার জন্য তিনি এখানকার হাতি মালিকদের নিয়ে সমস্যা সমাধানে সভা আহ্বান করেছেন। তবে হাতির মালিক আব্দুল মানিক এর সাথে ০১৭১১-৩৪৪০৫৭ নাম্বারে সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমি গাজীপুরে আছি, হাতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে এসছে। আহত শ্রমিকদের বিষয়ে বলেন হাতি দ্বারা এদের বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয়। তবে শ্রমিকরা আহত হয়েছেন।

গেলো কয়েকদিনের আশঙ্কা আর পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদই সত্যিই হলো। একটি হাতির উপদ্রবে সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার পূর্ব পাহাড়ে গত ৬/৭ দিন থেকে বিভিন্ন স্থানে ধাওয়ার পর সোমবার সকালে গাজিপুরের গোগালীছড়া বাঁশ মহালের পাশে রাস্তায় উপর পার্কিং করা একটি বাঁশ বোঝাই গাড়ী ভেঙ্গে চুরমার করে এবং হাতির ভয়ে গাড়ী থেকে লাফিয়ে পড়ে শাহাবুদ্দিন (৩৫) রফিক মিয়া (৫০) ও কাশেম আলী (৬০) নামে আহত শ্রমিকরা কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ও গোগালীছড়া বাঁশ মহালের শ্রমিক।

উন্মত্ত হাতিটি এখন গাজিপুরের পূর্ব পাহাড়ে অবস্থান করছে বলে বন বিভাগ নিশ্চিত করেছে এবং বন বিভাগ গাজিপুর-সাগরনাল পাহাড়ী রাস্তা নিরাপত্তার জন্য বন্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে গত কয়েকদিন থেকে হাতিটির আক্রমণে উপজেলার মেরিনাসহ বেশ কয়েকটি চা বাগানে শ্রমিকরা ও পাহাড়ে দিনমজুররা ভয়ে কাজ না করতে পারলেও হাতিটির মালিক হাতিকে নিয়ন্ত্রনে নিতে চরম অবহেলার আশ্রয় নিয়ে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। কেননা গত ২ বছর পূূর্বে একইভাবে উন্মত্ত হাতির আক্রমণে কয়েকজন লোক মারা গিয়েছিলেন। এলাকাবাসী হাতির মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন।

এব্যাপারে বন বিভাগের কুলাউড়া রেঞ্জের সহযোগী রেঞ্জ অফিসার রিয়াজ উদ্দিন জানান, উন্মত্ত হাতিটি বেশ বড়। হাতির মালিক মানিক মিয়া হাতিটিকে নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন বলে বন বিভাগকে নিশ্চিত করেছেন। তবে হাতি মালিকের নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে খবর পায়ো গেছে। এখন বনবিভাগে নিয়ে আসা হয়নি। আসলে উপজেলা নির্বাহী কমকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে ইউএনও স্যারের উপস্থিতিতে হবে পরবর্তী ব্যবস্থা।

এব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ গোগালীছড়া বাঁশ মহালের মহালদার আব্দুল কাদির রুপাই জানান, হাতি তার গাড়ী ভেঙ্গে চুরমার করেছে এবং হাতির আক্রমন থেকে বাঁচতে গাড়ী থেকে পড়ে ৩ জন শ্রমিকের হাত-পা ভেংগেছে । তাই হাতির মালিকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।

মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ হাতির আক্রমনে আহতের ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে জানান লোকজন আহতের খবর পেয়ে কুলাউড়া সার্কেলের এডিশনাল এসপিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এডিশন্যাল এসপি কুলাউড়া সাদেক কাওছার দস্তগীর জানান, হাতি ভারতীয় তার পরে ব্যবস্থা নিতে মালিকদের ডাকা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০১৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাতে পুটিছড়া বনবিটের এলাপুর নামক স্থানে পথচারিদের উপর হামলা চালায় একটি উন্মত্ত হাতি। এতে ঘটনাস্থলেই মঙ্গল খাড়িয়া (৪৫) নামক এক ব্যক্তি মারা যান।

ওই ঘটনার ২০ দিন পর ২৩ সেপ্টেম্বর মেরিনা চা বাগানের ৮নং সেকশনে ওই হাতির আক্রমনে কর্মধা ইউনিয়নের মনছড়া গ্রামের গণি মিয়া (৫০) নামক একজন মাহুত মারা যান।

পরে রসগোল্লা নামক ওই হাতিটিকে ঢাকা থেকে বন্যপ্রাণী বিভাগের বিশেষজ্ঞ টিম এসে নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম হয়। মালিকানা হাতি মালিকদের নিয়ন্ত্রণে রেখে জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানিয়দের এখন সময়ের দাবী।