বাঘাইছড়িতে পাহারারত পুলিশ।

দ্বিতীয় ধাপের ভোট গ্রহণ শেষে ফেরার পথে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে দুর্বৃত্তদের ব্রাশফায়ারে নিহত সাতজনের পরিবারসহ আহতদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বাঘাইছড়িতে নিহত ও আহতদের পরিবার যেন দ্রুত সহযোগিতা পায়, সে জন্য ইসি সচিবালয়কে এরই মধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাঙামাটিতে নিহত নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে বুধবার আমরা মিটিংয়ে বসেছিলাম। ইসির পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছি। এ ছাড়া নিহত ব্যক্তিদের কীভাবে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা যায়, সেসব বিষয় নিয়েও কথা হয়েছে। তাদের পরিবারকে দ্রুত সহযোগিতার ব্যবস্থা করতে ইসি সচিবালয়কে নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।’

কী ধরনের সহযোগিতা করা হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কাজে গিয়ে নিহত হলে ইসির বিধি অনুযায়ী নিহত ব্যক্তিদের সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু কমিশন চাচ্ছে, এই সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার যত বেশি তাদের দেয়া যায়, সেটা করতে।’

সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার বেশি বলতে কী পরিমাণ হতে পারে—জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইসির ফান্ড থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার বেশি দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। কত বেশি দেয়া হবে, সেটা নিয়ে কমিশন পরবর্তী মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এ ছাড়া যে শিক্ষকরা নিহত হয়েছেন, চাকরি জীবনের শেষে তারা তো পেনশন পেতেন। সেই পেনশনের পুরো টাকাটা যেন তারা পান, সেই ব্যবস্থা আমরা করব। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের (আনসার ও ভিডিপির সদস্য) জন্যও পেনশনের পুরো টাকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল আরো বলেন, ‘এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর যে ব্যক্তিগত তহবিল আছে, সেখান থেকেও নিহত বা আহতদের জন্য কিছু দেওয়া যায় কি না, সে ব্যাপারেও আমরা চেষ্টা করব। নিহতদের মধ্যে একজন ড্রাইভার আছেন। তার জন্য তো পেনশনের ব্যবস্থা নেই। সুতরাং তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে যদি বেশি কিছু করা সম্ভব হয়, সেই চেষ্টাও আমরা করবো।’

তবে আগামী ধাপে, অর্থাৎ এরপর ওই অঞ্চলে নির্বাচন পরিচালনা করলে রাতে মুভ না করতে বলা হতে পারে। এ ছাড়া কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রস্তুতি হিসেবে হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা ইসি রাখবে বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

এসব বিষয়ে আরো জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, ‘শুধু নিহতদের জন্য নয়, আহতদের জন্যও সহযোগিতার হাত বেশি করে বাড়ানো যায় কি না, সেই চিন্তা করছে ইসি। আল্লাহ না করুক, যদি কোনো ব্যক্তি পঙ্গু হয়ে যায়, তাহলে তার জীবনটাও কিন্তু প্রায় শেষ। সুতরাং তার জন্যও বড় কোনো অনুদান দেয়ার ভাবনা আমাদের আছে। প্রয়োজনে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করব। কিছু টাকা পেয়ে অন্তত যদি তার উপকার হয়।’

আজকের পত্রিকা/জেবি