সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তিকে দেখলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে স্থানীয় প্রসাশনকে খবর দিতেও বলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

দেশে গত ৪৮ ঘণ্টায় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনা। ‘পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজে মানুষের মাথা লাগবে’- এমন গুজব ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়ায় ভয়াবহ এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে দেশজুড়ে। আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ কোনো যৌক্তিকতা ধার না ধরে সন্দেহের বশে ঘটিয়ে ফেলছে গণপিটুনির ঘটনা।

সম্প্রতি কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তি গণপিটুনিতে নিহত হওয়ায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টিতে উদ্বিগ্ন সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও। ২২ জুলাই সোমবার পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক সাঈদ তারিকুল হাসান সারাদেশের পুলিশের ইউনিটকে এক বার্তায় ছেলেধরার গুজব বন্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব এবং ব্লগগুলো নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ছেলেধরা-সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিলে বা শেয়ার করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেখানে।

এছাড়া ওই বার্তায় মোট চারটি উপায়ে ছেলেধরার গুজব ও গণপিটুনি প্রতিরোধে পুলিশের ইউনিটগুলোকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি; স্কুলে অভিভাবক ও গভর্নিং বডির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়, ছুটির পর অভিভাবকরা যাতে শিক্ষার্থীকে নিয়ে যায়- সে বিষয়ে নিশ্চিত করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা, প্রতিটি স্কুলের ক্যাম্পাসের সামনে ও বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, মেট্রোপলিটন ও জেলা শহরের বস্তিতে নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের কোন ইউনিট কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, সে বিষয়েও আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে ফ্যাক্সের মাধ্যমে জানাতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে ছেলেধরা সংক্রান্ত গুজবে কান না দিতে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তিকে দেখলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে স্থানীয় প্রসাশনকে খবর দিতেও বলা হয়েছে মাইকিংয়ে।

আজকের পত্রিকা/সিফাত