আসছে শীত বাড়ছে নানা রোগ,বিশেষ করে শহরের বাসিন্দাদের অনিরাপদ পানি ব্যবহারের জন্য বাড়ছ্ েবিভিন্ন পানিবাহিত রোগ। এসব রোগ থেকে সুস্থ থাকতে হলে নিরাপদ পানি পান এবং বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। তাই স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হলে আপনাকে অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি পান এবং নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে হবে। বাড়িতে যে পানি ব্যবহার করা হয় তা কতটা নিরাপদ,কতটা জীবানুমুক্ত? এমন সামান্য অবহেলায় আর অপরিস্কার পানি ব্যবহারে প্রতিদিনই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে নানা মানুষ। এমনকি নিহত হচ্ছে অনেকে। আর এসব অসচেতনা থেকে পানিবাহিত রোগের প্রভাব শীতকালে বেশি ।

তাই রাজধানীবাসীকে, পানিবাহিত রোগ থেকে বাচাতে নিরাপদ পানি ব্যবহারে সচেতন করতে এবং পানি রাখার ট্যাংক পাইপলাইন পরিস্কার করতে যাত্রা শুরু করেছে একটি সংঘঠন যার নাম ‘ক্লিন ফোর্স’। যারা রাজধানীর যে কোন বাসাবাড়িতে গিয়ে পুরো বাড়ির পানিতে জমে থাকা জীবানু ধ্বংস করে নিরাপদ পানি ব্যবহারের উপযোগী করে দেয়।

“আপনার বাড়ির পানির সুরক্ষায়”এই শ্লোগানে কাজ শুরু করেছে ক্লিনিং সার্ভিস বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ক্লিন ফোর্স। তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপরিশকৃত আন্তর্জাতিক পদ্ধতির ৮টি ধাপে আধুনিক আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ ও প্রশিক্ষিত কর্মী দ্বারা রিজার্ভ সাপ্লাই পানির ট্যাংক পরিস্কার ও জীবানুমুক্ত করে।

আমাদের দৈনন্দিন কাজের ৯০ ভাগ কাজ পানির উপর নির্ভরশীল। একটি বাড়িতে মুলত ৪টি স্থানের পানিতে জীবানু জমে থাকে ছাদের উপরের সাপ্লাই পানির ট্যাংক,বাড়ির নিচের ট্যাংক,সম্পূর্ণ বাড়ির পাইপলাইন ও সার্ভিস লাইন। খাবারের পানি ফিল্টার করলেও আমরা রান্না, কাপড় ধোয়া হাত মুখ দোয়া এবং গোসল করতে সরাসরি সাপ্লাই ট্যাংক থেকে পানি ব্যবহার করে থাকি।

আমরা অনেকসময় কিছু সময় বাড়ির দারোয়ান কেয়ারটেকার বাসার কাজের লোক এবং আশেপাশের দিনমজুর দিয়ে পানির ট্যাংক পরিস্কার করে থাকি। তারা শুধুমাত্র ব্লিচিং পাউডার এবং ব্রাশ দিয়ে পানির ট্যাংক পরিস্কার করে তাতে পানির ট্যাংক পরিস্কার তো হয়ই না বরং ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াসহ নানা সংক্রামক রোগ বৃদ্ধি পায়।কারন এ পদ্ধতিতে পানির ট্যাংক পরিস্কার করলে ময়লা পরিস্কার হয় না। আমরা খালি চোখে ময়লা দেখতে পাইনা।তাই আর পরিস্কারের প্রয়োজনও মনে করি না।অসচেতন ভাবে এভাবে পরিস্কার করে ব্যাবহার করি বছরের পর বছর।

সরকারী তথ্য হিসেবে প্রতিবছর পানিবাহিত রোগে লক্ষাধিক লোক মারা যায়।যার সবচেয়ে বড় কারন নিরাপদ পানি ব্যবহারের অভাব। ফলে দেখা দেয় নানা পানিবাহিত রোগ যেমন ডায়রিয়া, জন্ডিস, কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস, কৃমি, খোসপঁচড়া এবং জ্বর। পানিবাহিত রোগের হাত থেকে বেচে থাকতে বছরে অন্তত দুই বার বাড়ির সাপ্লাই পানির ট্যাংক সঠিক ও স্বাস্থসম্মত উপায় পরিস্কার এবং জীবানুমুক্ত করা প্রয়োজন। তাই রাজধানীবাসীদের ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ৬ মাস পরপর ট্যাংক পরিস্কার করার কথা বলে। কিন্তু দেখা যায় শহরে বেশিরভাগ বাড়িতে এ বিষয়ে রয়েছে নানা হেলাফেলা। অনেক বাড়ি আছে যারা ৩/৪ বছরে ও বাড়ির সাপ্লাই পানির ট্যাংক পরিস্কার করে না এবং পাইপ ক্লিনিং সম্পর্কে অনেকেই জানে না।

পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ক্লিনিং ফোর্সের যাত্রাটা শুরু হয়েছিল এ বছরের শুরুতে।তিন জন ক্লিনার দিয়ে অল্পদিনেই এখন ৪২ জনের এক অভিজ্ঞ টিমে পরিণত হয়েছে ক্লিনিং ফোর্স। এখন পর্যন্ত তারা প্রায় ১ হাজার ৫০০ আবাসিক ভবন এবং একশরও বেশি কমার্শিয়াল ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ক্রেতাদের সেবা দিয়েছে। তাদের মোহাম্মাদপুর এবং উত্তরায় দুটি সার্ভিস স্টেশন রয়েছে।সপ্তাহে ৭ দিনই তাদের সেবা অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীর বাসিন্দারাও এ সেবাকে ভালোভাবেই গ্রহণ করছে।তারা এর ফলে নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে পারছে।

আগামীতে এ সেবা শুধু রাজধানীতে নয় বরং বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে পৌছে দিয়ে দেশের মানুষকে নিরাপদ পানি ব্যবহার এবং পানিবাহিত রোগ হ্রাস করতে চায় এ সংঘঠনটি।