‘গরু একটি গৃহপালিত প্রাণি। গরুর চারটি পা ও একটি লেজ আছে…’ ছোট থেকেই আমরা পাঠ্যপুস্তকে এভাবে গরুর রচনা শিখে থাকি। আদতে এই রচনা আমাদের খুব বেশি কাজে লাগে কি? এর পরিবর্তে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা যায় নিরাপদ সড়ক, ট্রাফিক আইনসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুবই দরকারি।

অনেকটা এমনই মতামত দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলামও। ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার মহাখালী বাস টার্মিনালে বাস মালিক শ্রমিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি ‘পাঠ্যপুস্তকে গরুর রচনার পরিবর্তে নিরাপদ সড়ক, ট্রাফিক আইন ইত্যাদি অন্তর্ভূক্ত করা প্রয়োজন’ বলে জানিয়েছেন। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন মহাখালী বাস টার্মিনাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম।

এছাড়া ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাঈদ আহমেদ, ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম হোসেন, শফিউল্লাহ ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরলে আমাদের মোট জিডিপি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে যাবে। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের গৃহীত বাস র‌্যাশনালাইজেশনের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, রাজধানীর কেন্দ্রস্থল মহাখালী থেকে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সরিয়ে নিতে হবে।

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘রাজধানীতে আন্তঃজেলা বাস চলাচল করলে যানজট সৃষ্টি হয়। মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। তাছাড়া মূল সড়কে বাস পার্কিং করার কারণে যানজট আরো বেড়ে যায়।’ নতুন বাস টার্মিনাল মহাখালী বাস ট্রার্মিনালের সামনের প্রধান সড়কে কোনো বাস দাঁড় না করাতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

নতুন আন্তজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণে সিটি কর্পোরেশন সহায়তা করবে এ কথা জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘শহরের মাঝে এমন আন্তজেলা বাস টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। সিটি কর্পোরেশন থেকে আন্তজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণে নতুন জায়গার সন্ধান করা হবে।’

বাস মালিকদের উদ্দ্যেশে তিনি বলেন, ‘আপনারাও জায়গা দেখুন। কোথাও পেলে আমাকে জানাবেন। আমি আপনাদের সঙ্গে যাব’। আতিকুল ইসলাম মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশের ফুটপাত মেরামত করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ফুটপাত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বাস মালিক শ্রমিকদেরও নিতে হবে।

আজকের পত্রিকা/সিফাত