চৈত্র মাসে হঠাৎ করে ঘণকুয়াশা পড়ায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে দুই পাড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ।

বিআইডব্লিউটিসি সুত্রে জানা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে গত তিনদিনে প্রায় ১১ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে ১৫ মার্চ শুক্রবার সকাল থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়েছে।

দুপুর সাড়ে ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাটুরিয়া ঘাটে তিনশ এবং দৌলতদিয়া ঘাটে ২শ ৫০টি যানবাহন ফেরি পাড়াপারের অপেক্ষায় রয়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকা এসব যানবাহনের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ফেরি কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘন কুয়াশার কারণে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা, বুধবার ভোর সাড়ে ৭টা থেকে ৯টা এবং মঙ্গলবার ভোর ৪টার থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।

এছাড়া বৃহস্পতিবারও দিনভর পাটুরিয়া ফেরিঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন ছিল। নদী পার হতে যাত্রীবাহী বাসকে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত। পণ্যবোঝাই ট্রাকগুলোকে দুই থেকে তিনদিন পর্যন্ত ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। ।

তবে ট্রাক চালকদের অভিযোগ, দুই থেকে তিনদিন পর্যন্ত তারা ঘাটে আটকে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র বাস পারাপার করায় তাদের বসে থাকতে হচ্ছে। এই সুযোগ ঘাট কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ট্রাকের সিরিয়াল দেয়াসহ বেশ কিছু অনিয়মের কথাও বলেন ট্রাক চালকরা।

চালকরা জানান, তারা নিয়মিত এই পথে চলাচল করেন। তবে শীতের পর গ্রীষ্মের সময় ঘন কুয়াশা পড়া তাদের নতুন অভিজ্ঞতা। এটা প্রকৃতির বৈরি আচরণ মনে করছেন। তবে এই বিপর্যয়ে ঘাট কর্তৃপক্ষের পারাপারে অবহেলা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন চালকরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা সেক্টরের অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, এ মৌসুমে সাধারণত কুয়াশার প্রকোপ থাকে না। এই বিষয়ে তাদেরও তেমন কোন প্রস্তুতি নেই। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে ঘন কুয়াশা পড়ায় ফেরি পারাপারে তারাও সমস্যায় পড়েছেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহীবাস পারাপার করায় পণ্যবোঝাই ট্রাককে বেশি সময় ধরে আটকে রাখতে হচ্ছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

খুব শিগগিরই কুয়াশার প্রকোপ কমে যাবে এবং এই বিপর্যয় বেশি দিন থাকবে না বলে তিনি জানান।

আজকের পত্রিকা/শাহজাহান বিশ্বাস, মানিকগঞ্জ