পাটকেলঘাটা ওসির উপর হামলাকারী শিবির সভাপতি এখন মুখোশধারী

ওসির উপর হামলাকারী শিবির নেতা হাসানুর রহমান হাসান আবারও বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে। মুখোশ বদলে এখন বঙ্গুবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ঝুঁলিয়ে সরকারি রাস্তার জমি দখল করে বানিয়েছে অফিস।

এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছে ভিন্ন পরিচয়ে।

সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের পাটকেলঘাটা এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে রাস্তার বিপরীত পাশে সরকারি রাস্তার জমি দখল করে শিবির নেতা হাসান তৈরী করেছে অফিস।

গত সোমবার সরকার দলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীরা শিবির নেতা ও তারসহযোগীদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। ১৩ জুলাই ভোর রাতে পাটকেলঘাটার বড়বিলা গ্রামের ফরিদ হোসেনের চায়ের দোকানসহ দোকানের মালামাল গায়েব করে দেয় এই শিবির নেতা ও তার সহযোগীরা।

চায়ের দোকানদার ফরিদ হোসেনের মা ছফুর বেগম জানান, আমার ছেলের চায়ের দোকানসহ মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় পাটকেলঘাটা তৈলকুপি গ্রামের শিবির নেতা মোসলেমের ছেলে হাসানুর রহমান হাসান, আব্দুর রহিম গাজীর ছেলে ফ্রিডম পার্টির নেতা আফরাফ গাজী, মোজাম গাজীর ছেলে নুর ইসলাম গাজীসহ তাদের সঙ্গীরা। ২০১৩ সালের পাটকেলঘাটা থানার তৎকালীন ওসির উপর হামলা মামলার অন্যতম আসামী এই শিবির সভাপতি হাসান।

তার বিরুদ্ধে পাটকেলঘাটা থানায় একাধিক নাশকতা মামলা রয়েছে। ১৯৯১ সালে আশরাফ গাজী ফ্রিডম পার্টি তালা উপজেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে সে চট্টগ্রামে হাটহাজারি মাদরাসায় শিবিরের সংগঠণ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।

পাটকেলঘাটার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহমান জানান, ১/১১ এর সময় প্রশাসনের চাপে পড়ে আশরাফ গাজী পালিয়ে রাজশাহীতে অবস্থান নেয়। ২০১৩ সালে সহিংসতার সময় পাটকেলঘাটাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ভাংচুর, রাস্তা অবরোধ, গাছ কাটা, ওসিও উপর হামলাসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। তবে বিশেষ এক তদবিরে যে থেকে যায় আইনের ধরা ছোয়ার বাইরে। বর্তমানে এই চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সরকারি জায়গায় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে সাংবাদিক অফিস তৈরী করেছে। সাতক্ষীরা বৌবাজার এলাকায় বাসিন্দা জেলা জামায়াত নেতা আমিনুর ইসলাম বকুলের বাড়িতে প্রায়ই বৈঠক করে পরিকল্পনা শিবির নেতা হাসান। প্রশাসনের কাছে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাচ্ছি।

অন্যদিকে, তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম জানান, শিবির নেতা হাসান ও তার সঙ্গীরা এখন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকারি জমি দখল করে অফিস নির্মাণ, সাধারণ মানুষদের হয়রানি করে চলেছে।

পল্লী বিদ্যুতের সামনে অফিস সরকারি জায়গায় অফিস তৈরী করে শিবিরের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ঘটনা জানতে পেরে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা সোমবার তাদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন, হাসানুর রহমান হাসানের বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতা মামলা রয়েছে। তবে মামলাগুলোতে বর্তমানে জামিনে রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে সাংবাদিক সেজে ভোল পাল্টে ফেলেছে। সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে এমন অভিযোগ কেউ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈশাখী/সাতক্ষীরা