নওগাঁর মান্দায় কশব-বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যাতায়াতের নতুন রাস্তার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে রাস্তাটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসএম হাবিবুল হাসান।

এই রাস্তাটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে ভূমি অফিসে আসা- যাওয়ার পথে পথচারীদের আর ভোগান্তির স্বীকার হতে হবে না। আর সেইসাথে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটলো এমনইি মন্তব্য স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দা বীরমুক্তিযোদ্ধা মৃত নাসির উদ্দিনের ছেলে মঞ্জুর রহমান মিঠু বলেন,কশব-বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি উপজেলার পাঁজরভাঙ্গা বাজারের অদুরে আত্রাই নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত। প্রায় শতবছরের পুরোনো এই তহসিল অফিসটি দুই ইউয়িনের বাসিন্দাদের ভূমি সংক্রান্ত সকলসেবা প্রদান করে আসছে।

আগের যুগে যোগাযোগ ব্যবস্থা নদী কেন্দ্রীক হওয়ায় উক্ত অফিসে সরাসরি যাতায়াতের কোন রাস্তা ছিল না। এ অফিসের আশপাশে কোনো খাস জমি না থাকায় দীর্ঘদিনেও সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, অফিসের পাশে পাঁজরভাঙ্গা-মিঠাপুর-বান্দাইখাড়া সড়কটি প্রায় ২ শ মিটার দুরে অবস্থিত। সেবা নিতে আসা লোকজন মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল বা অন্যান্য যানবাহন রাস্তায় রেখে পায়ে হেঁটে ভূমি অফিসে যান। এসময় রাস্তায় রেখে আসা বাহন নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ও দুশ্চিন্তায় থাকেন। এ অবস্থায় এসিল্যান্ড এসএম হাবিবুল হাসান স্যারের প্রচেষ্টা ও ভূমি মালিকদের স্বদিচ্ছায় রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হয়েছে।


কশব-বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যাতায়াতের রাস্তায় জমিদাতা দুলাল হোসেন ও হারুন অর রশীদ জানান, ‘এসিল্যান্ড মহোদয় অনেকদিন আগে থেকেই রাস্তাটির জন্য জমিদান করে সহযোগিতা করতে বলে আসছিলেন। কিন্তু উক্ত জমির মালিকানা একাধিক ব্যক্তি হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। তবে তহসিল অফিসে যাতায়াতে রাস্তার জন্য জমি দিতে পেরে আমাদেরও খুব ভাল লাগছে।’

পাঁজরভাঙ্গা বাজার এলাকার স্থানীয়রা জানান, ‘উক্ত তহসিল অফিসে আমরা কোন বাহন নিয়ে যেতে পারি না। এ রাস্তাটি নির্মাণে জন্য দুই ইউনিয়নবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল। রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে সেবা গ্রহিতারা সহজেই তাদের বাহন নিয়ে অফিসটিতে যেতে পারবেন। এসিল্যান্ডের এ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই।’

এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম হাবিবুল হাসান বলেন, পাঁজরভাঙ্গা-মিঠাপুর-বান্দাইখাড়া সড়ক থেকে সরাসরি একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য ভূমি মালিক ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছি। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষে মালিকগণ রাস্তাটি নির্মাণে জমি দান করতে সম্মত হন। এরপরই রাস্তাটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ কাজে সহযোগিতার জন্য সকলের নিকট আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

-মাহবুবুজ্জামান সেতু