পল্লীকবি জসীমউদ্দীন জন্ম : ১ জানুয়ারি, ১৯০৩, মৃত্যু : ১৪ মার্চ ১৯৭৬। ছবি : সংগৃহীত

ইট পাথরের শহর তার সইতো না। তিনি মানুষকে নিমন্ত্রণ জানাতেন গ্রামে। ‘নিমন্ত্রণ’ কবিতায় আছে এর নজির।

“তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গৃহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়”

বাঙালি ভালোবেসে এই কবিতার কবি জসীমউদ্দীনকে ডেকেছে ‘পল্লী কবি’ নামে। ১৪ মার্চ বৃহস্পতিবার তার ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে শহরের গোবিন্দপুরে কবির কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনাসভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

একুশে পদকপ্রাপ্ত এই কবি ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ ৭৩ বছর বয়সে ঢাকায় মারা যান। ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে পৈতৃক বাড়ির আঙিনায় প্রিয় ডালিম গাছের নিচে কবিকে সমাহিত করা হয়।

১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে জসীমউদ্‌দীন জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবনে লেখা তাঁর ‘কবর’ কবিতাটি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হলে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। ‘আসমানী’ তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতা।

এ ছাড়া জসীমউদ্দীন রচিত ‘মধুমালা’, ‘বেদের মেয়ে’, ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’, ‘নকশী কাঁথার মাঠ’, ‘ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়’, ‘সুচয়নী’ ইত্যাদি রচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের মমতাময় গ্রামের আখ্যান।

আজকের পত্রিকা/এমএইচএস/জেবি