এ পিল বাজারে আসতে এক দশক পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

পুরুষের জন্য এক ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল মানবদেহের জন্য নিরাপদ কিনা তা প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। আমেরিকার নিউ অর্লিনসে একটি নেতৃস্থানীয় মেডিকেলের ‘এন্ডোক্রিন ২০১৯’ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে এই পিল বাজারে আসতে এক দশক পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

দিনে একটি করে এই পিল খেতে হবে। এই বড়িতে এক ধরনের হরমোন আছে, যা পুরুষের দেহে শুক্রকীটের উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে কাজ করবে। গবেষক প্রফেসর ক্রিস্টিনা ওয়াং এবং তার সহযোগীরা এ ফলাফল নিয়ে উল্লসিত, কিন্তু একইসঙ্গে তারা সতর্কও।

প্রফেসর ওয়াং বলছেন, আমাদের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, এই পিল শুক্রকীট উৎপাদন কমাবে, কিন্তু যৌন ইচ্ছা আগের মতোই থাকবে। তবে জন্মনিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া হিসেবে এটা কতটা কার্যকর হবে, তা জানতে হলে আরও বড় আকারে এবং দীর্ঘ সময় নিয়ে পরীক্ষা চালাতে হবে। পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণের আরও নানা উপায়ও তিনি পরীক্ষা করছেন।

যারা ২৮ দিন ধরে ইলেভেন বেটা এম এন টিডিসি নামের ওই বড়িটি খেয়েছেন – তাদের হর্মোনের স্তর কমেছে, এবং বড়ি খাওয়া ছেড়ে দেবার পর আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

তবে এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো – এ ধরনের গবেষণা এবং ঔষধ তৈরিতে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো কতটা আগ্রহ দেখায়। কারণ এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সমস্যা রয়েছে। পুরুষদের জন্য বর্তমানে কনডম এবং ভ্যাসেকটমি ছাড়া আর কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নেই।

পুরুষদের জন্য হরমোনভিত্তিক একটি পিল তৈরি করার সময় বিজ্ঞানীদের এটা নিশ্চিত করতে হবে, তার যৌন অনুভূতি বা পুরুষাঙ্গের উত্থান শক্তি যেন কমে না যায়। সন্তান জন্মদানের ক্ষমতাসম্পন্ন পুরুষের অন্ডকোষে নতুন শুক্রকীট প্রতিনিয়তই তৈরি হতে থাকে, এবং এ উৎপাদন পরিচালনা করে নানা রকম হরমোন। পুরুষের জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল তৈরি করতে হলে এমনভাবে এ প্রক্রিয়াটি বন্ধ করতে হবে, যাতে হরমোনের স্তর কমে গিয়ে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা না দেয়।

এই পিলটি পরীক্ষায করে দেখা গেছে, যারা ২৮ দিন ধরে ইলেভেন বেটা এম এন টিডিসি নামের ওই বড়িটি খেয়েছেন, তাদের হরমোনের স্তর কমেছে এবং পিল খাওয়া ছেড়ে দেবার পর আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। এদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছিল খুবই কম এবং মৃদু।

যদিও এই পিল ব্যবহারকারী পাঁচজন তাদের যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। আবার অন্য দুজন বলেছেন পুরুষাঙ্গের উত্থান শক্তি কিছুটা কমে যাওয়ার কথা। তবে তাদের যৌন ক্রিয়াশীলতা কমে যায়নি। তাদের মধ্যে কেউই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে পিল খাওয়া বন্ধ করেননি এবং সবার দেহেই এটি ‘নিরাপদ’ বলে উত্তীর্ণ হয়েছে।

আজকের পত্রিকা/বিএফকে/সিফাত