ধরা পড়া যুবক। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনা জেলা শহরের নিউটাউনে শিশুর গলা কাটা মাথা বস্তায় করে নিয়ে যাওয়ার সময় আটক অজ্ঞাত যুবক গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহত যুবক নেত্রকোনা পৌর শরের একলাছ মীয়ার ছেলে রবিন(২৫)। সে একজন রিক্সাচালল এবং মাদকাসক্ত ছিল। আজ বিকেলে বৃহস্পতিবার দুপুরে সে নিহত হবার পর বিকেলেই তার পরিচয় মিলেছে।

এদিকে আজ বিকেলে স্থানীয় পৌর শহরের কাটলী এলাকার কায়কোবাদ খানের নির্মাণাধিন একটি ৩ তলা ভবনের একটি কক্ষ থেকে শিশুর দেহটিও উদ্ধার করা হয়েছে। সেখান থেকে একটি ধারালো কাটার (কাগজ কাটায় ব্যবহৃত হয়) উদ্ধার করে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ। ধারনা করা হচ্ছে এই কাটার দিয়েই তাকে গলা কেটে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় সারা জেলায় গলা কাটার আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

নিহত শিশু সজিব মিয়া (৮) নেত্রকোনা সদরের আমতলা গ্রামের রিকশা চালক রইছ উদ্দিনের ছেলে। রইছ উদ্দিন তার পরিবার নিয়ে নেত্রকোনা পৌর শহরের কাটলী এলাকার হিরণ মিয়ার বাসায় ভাড়ায় থাকেন।

নিহত শিশু সজিবের পিতা রইছ মিয়া জানায়, আজ সকাল ৯টার দিকে পাশের দোকান থেকে সজিবকে জিনিস আনতে পাঠিয়েছিল। পরে আর আসেনি। সবসময় এই এলাকায় খেলাধুলা করে বিধায় কোন খোঁজ নেয়নি তার বাবা-মা। দুপুরে এই সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার ছেলেকে চিনতে পারে।

এদিকে রইছ মিয়ার বাসার মালিক হিরা মিয়া জানায়, গণপিটুনিতে নিহত রবিন আগে তার বাসায় ভাড়া থাকত। মাদকাসক্ত ছিল বিধায় কয়েক মাস আগে তাকে এই বাসা থেকে বিদায় করে দিয়ে রইছ মিয়াকে ভাড়া দেয়। এরপর থেকে রইছ মিয়ার বাসায় আসা যাওয়া করত রবিন।

নেত্রকোনা পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নিহত সজিবের বাড়ীতে গিয়েছেন। এদিকে ঘটনাস্থল বিল্ডিংয়ের মালিক কায়কোবাদ দীর্ঘদিন যাবত বাসার বাইরে থাকে বলে জানায় এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ ফখরুজ্জামান জুয়েল জানান, নেত্রকোনা পৌর শহরের পাটপট্রি ব্রীজ সংলগ্ন কাটলী এলাকার কায়কোবাদ খানের নির্মাণাধিন ৩ তলা ভবনের উপর থেকে রক্ত পড়তে দেখে স্থানীয়রা এখানে ওই দেহটির খুঁজ পায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তা উদ্ধার করে। এছাড়াও আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টার দিকে পৌর শহরের নিউটাউন অনন্ত পুকুরের উত্তরপাড় এলাকায় বস্তায় করে একটি কাটা মাথা নিয়ে যাচ্ছিল রবিন। এসময় তাকে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে বস্তা খুলে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন এক শিশুর মাথা পাওয়া যায়। এসময় জনতার গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে। মারা যাবার সময় তার পরিচয় পাওয়া না গেলেও বিকেলে তা পাওয়া গেছে।

এদিকে রবিন ও শিশু সজিবের মরদেহ নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হত্যার রহস্য এখনো উদঘাটন হয়নি বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় আতংকিত না হওয়ার জন্য সকলের আহ্বায় জানিয়েছেন।