পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা : প্রতারক চক্রের সদস্য তৈয়ব আটক

নিজেকে এমপি পরিচয়ে মোঠফোনে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র।

এ ঘটনায় সিলেটের কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়েরের পরে আবু তৈয়ব (২৪) নামে প্রতারক চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শনিবার (৫ অক্টোবর) তাকে চট্রগ্রামের নিউমার্কেটে নিজ দোকান সাদ্দাম স্টোর থেকে গ্রেফতার করে রোববার (৬ অক্টোবর) ভোরে সিলেটে আনা হয়। পরে, তাকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আবু তৈয়ব চট্টগ্রামের বোয়ালখালি থানার উত্তর কনুজুরী সারোয়াতুলির বাসিন্দা আব্দুল আলীমের ছেলে বলে জানান কতোয়ালী থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো: সেলিম মিঞা।

পিবিআই সিলেটের পরিদর্শক আওলাদ হোসেন এ প্রতিবেদককে তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গত ২৫ জুলাই রাত ৯টার দিকে একটি মোঠফোনের নম্বর থেকে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনকে ফোন দিয়ে নিজেকে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের পরিচয় দেন এক ব্যক্তি।

তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, তার ভাই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একথা বলে চিকিৎসার জন্য সাহায্য চান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোঠফোনে বিষয়টি সিলেটের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে জানান ও সাহায্য করতে বলেন। পরে, একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে তাতে ৫০ হাজার টাকা দিতে বলেন অভিযুক্ত তৈয়ব। সাবেক মেয়র কামরানকে তিনি বলেন, আমি দেড় লাখ টাকা পাঠাচ্ছি, ওখান থেকে রেখে দিয়েন। কামরান ওই নম্বরে ৫১ হাজার টাকা বিকাশ করেন, সঙ্গে আরও দুই হাজার টাকা ফ্লেক্সিলোড করে পাঠান। এরপর হাসপাতালে খোঁজ নিতে গেলে ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনাটি তাৎক্ষণিক পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান সাবেক মেয়র কামরান।

এ ঘটনায় হাসপাতালের এক সেবিকা (নার্স) বাদী হয়ে কতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি কিছুদিন তদন্ত করে থানা পুলিশ। পরে, পুলিশ সদর দপ্তর সেটি সিলেট পিবিআই’কে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেয়।

পুলিশ পরিদর্শক আওলাদ হোসেন আরও বলেন, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর আদালতের অনুমতিতে চট্রগ্রামে অভিযান চালিয়ে তৈয়বকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া, যে নম্বরে বিকাশ করা হয়েছিল, ওই নম্বরধারী এহসানুল হক হাসানকে কিছুদিন আগে মাদক মামলায় গ্রেফতার করেছে চট্রগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাকেও ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।