সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য পাঠ করছেন স্ত্রী ইলা। ইনসেটে ব্যাংক কর্মকর্তা।

সাত বছরের শিশু কোলে স্বামীর বিচার চাইতে এসেছিলেন গৃহবধূ ইলা (৩০)। ওই গৃহবধূর শরীরজুড়ে স্বামীর নির্যাতনের ক্ষত। পরকীয়ার প্রতিবাদ ও যৌতুক হিসেবে ৫০ লাখ টাকার ফ্লাট কিনে দেওয়ার দাবিতে তার ওপর ওই নির্যাতন চালানো হয়েছে।

স্বামী ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ ওই নির্যাতন চালিয়েছেন। নির্যাতনের শিকার বধূর বাবার বাড়ি গুরুদাসপুর পৌরসভার চাঁচকৈড় বাজারে। বর্তমানে বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছেন তিনি। সংসারে সাত বছরের এক ছেলে রয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল আজিজের বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের চরকুশাবাড়ি গ্রামে। তিনি ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ ঢাকার মতিঝিল লোকাল শাখায় কর্মরত রয়েছেন। চাকরির সুবাদে ঢাকায় অবস্থান করায় একটি ভাড়া বাসায় সম্প্রতি ওই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এনিয়ে ঢাকার কদমতলি থানায় মামলা দায়ের করেছেন নির্যাতিতা নারী।

এভাবেই গৃহবধু ইলার ওপর নির্যাতন করেন ব্যাংক কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী পরিবারটি জানায়, ২০১০ সালের ১৯ মার্চ বিয়ে হয় তাদের। বিয়ের সময় তার বাব নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও ১৫ ভরি সোনার গহনাসহ ঘরসাজানোর আসবাবপত্র যৌতুক দিয়েছিলেন। কিছুদিন পরই ওই গহনাগুলো বিক্রি করেন ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ। কয়েকমাস আগে নাটোর থেকে ঢাকায় বদলি নিয়ে যান তিনি।

ঢাকায় অবস্থানের সময় একটি ফ্লাট কেনার জন্য ৫০ লাখ টাকা দাবী করেন স্ত্রীর কাছে। তার দাবী পূরণ না করায় নির্যাতন শুরু স্ত্রীর ওপর। মাঝে মধ্যেই বাসা বদল করতেন তিনি। বাসায় মাঝে মধ্যেই নতুুন নতুুন লোক আসত। স্ত্রী ইলা তা জানতে চাইলেই মেরে ফেলার হুমকি দিত।্ তার শিবিরের সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকার ব্যাপারে তৎকালিন তাড়াশ থানার ওসি মাহবুবুুর আলম জিজ্ঞাসা বাদের জন্য থানায় ডেকে পাঠান। পরে উপরের তদবিরে ছাড়া পান বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়।

নির্যাতনের শিকার মেয়েটি আরো জানায়, শুধু যৌতুকের সমস্যা নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একাাধিক নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুুলে হোটেলে রাত কাটানোর অভিযোগও করেন স্বামীর বিরুদ্ধে।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৯ সেপ্টম্বর ববিতা নামের এক নারীর সাথে রাজশাহীর গোল্ডন ষ্টার আবাসিক হোটেলে রাত কাটানোর সময় পুলিশ তাকে আটক করে। ওই ঘটনায় বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমান উল্লাহ বাদী হয়ে মামলা করেন।

ওই মামলায় দুই মাস কারাভোগ করেন। পরে সংসার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে শ্বশুর ইসাহক আালী পাঁচ লক্ষাধিক টাকা খরচ করে ছাড়িয়ে আনেন তাকে। এর পরও বদলাননি তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- মেয়েটির মাথা থেকে পা পর্যন্ত অসংখ্য ক্ষতবিক্ষত কাটা দাগের চিহ্ন রয়েছে। বাম পায়ের বৃদ্বাঙ্গুলীর রগ কাটা রয়েছে। বর্তমানে তিনি স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছেন। এবং মাঝে মধ্যেই ০১৮৪৫২০৬৬৫০,০১৭২১৩১৪৬৬৬,০১৩১৭২৬৪১২৮,০১৬৮৭২২৭৭৯৪,০১৮৪৫২০৬৬৫০ মোবাইল ফোনের নম্বর থেকে মামলা প্রত্যাহার ও জীবন নাশের হুমকি দেন।

বর্তমানে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি ০১৭৮৬৮৫৪৬৯৫ বন্ধ থাকা এবং বার বার বাসা পরিবর্তন করায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্বব হয়নি।

নির্যাতিত পরিবারের দাবি, যেহুতু তার মেয়েকে কয়েক বার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং জামায়াত শিবিরের সাথে তার সংশিষ্টতা রয়েছে তািই তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হোক।

পরিতোষ অধিকারী/নাটোর