র‌্যাবের হাতে আটক নাদের।

বিবাহিত নাদের হোসেন নেন্দুর সঙ্গে কাউনিয়া থানাধীন নাজিরদহ কুটিরঘাট গ্রামের ওয়াহেদ আলীর মেয়ে রিক্তা বেগমের (১৯) দীর্ঘদিনের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল।

একপর্যায়ে নাদের হোসেন প্রেমিকা রিক্তাকে বিয়ে করে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ঘরে তোলার সম্মতি চেয়ে প্রথম স্ত্রী গোলাপী খাতুনকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।

গোলাপী খাতুন কিছুতেই স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে রাজি না হলে প্রেমিকা রিক্তা বেগমের পরামর্শে গোলাপী খাতুনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন নাদের। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নাদের হোসেন তার প্রেমিকা রিক্তা বেগমের সহায়তায় গত রবিবার গোলাপীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘরের মধ্যে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

র‌্যাব-১৩  এর একদল সদস্য রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ চর চতুরা (চারমাথা) এলাকার গৃহবধূ গোলাপী খাতুনকে (২৬) হত্যার অভিযোগে তার স্বামী নাদের হোসেন নেন্দুকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে।

মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে বগুড়ার সাড়িয়াকান্দি থানাধীন ফুলবাড়ি নামক স্থানের একটি মুরগি খামার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার নাদের হারাগাছ চর চতুরা (চারমাথা) এলাকার মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

বুধবার দুপুরে র‌্যাব-১৩ এর মিডিয়া কর্মকর্তা এএসপি খন্দকার গোলাম মোর্তুজা এ তথ্য জানান।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নিহত গোলাপীর ভাই বাদী হয়ে হারাগাছ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর হারাগাছ থানা পুলিশ নাদের হোসেনের প্রেমিকা রিক্তা বেগমকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও নাদের হোসেন বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে বেড়ান।

এএসপি খন্দকার গোলাম মোর্তুজা জানান, শুরু থেকেই র‌্যাব-১৩ গুরুত্ব সহকারে ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং পলাতক প্রধান আসামি নাদের হোসেনকে গ্রেফতারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়। অবশেষে মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

আজকের পত্রিকা/রংপুর