পদ্মার ভাঙ্গনে দৌলতদিয়ায় দুই ঘাট বিলীন, আরও ৩টি ঘাট হুমকির মুখে
আশ্রয় নেয়া মানুষজন

পদ্মার ভাঙ্গনে দৌলতদিয়ায় দু’টি ফেরি ঘাট নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আরও ৩টি ফেরি ঘাট বিলীন হওয়ার পথে। আগে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ তিনটি ঘাটও যে কোন সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে
স্থানীয়রা মনে করছেন।

এতে বন্ধ হয়ে যাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৭টি
জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি’র উদর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ভাঙ্গন কবলিত ফেরি ঘাট পরিদর্শন করলেও ১ ও ২ নং ঘাট দু’টি এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, নদীতে পানি বাড়া ও কমার সময়তেই পার এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হয়। এবার বর্ষার শেষের দিকে হঠাৎ করে পানি বাড়ায় এবং কয়েকদিন আগে
পানি কোমার কারণে পদ্মায় ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়।

এসময় দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করে। এতে গত ৫ অক্টোবর বিলীন হয় ১ নং এবং গত ৭ অক্টোবর বিলীন হয় ২ নং ফেরি ঘাট। প্রায় দেড়মাস আগে ঘাট দু’টি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

গত ২৫ অক্টোবর ৩নং ঘাটটি নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়লে সরিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করেছে কর্তৃপক্ষ।

ফলে এবার পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি সার্ভিস সবচেয়ে বেশী খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দেশের দক্ষিণ-পাশ্চিমাঞ্চলের হাজার
হাজার যাত্রীরা।

এ দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে স্থায়ী সমাধান চান এসব
অঞ্চলের যাত্রীরা। এবার গত কয়েক মাসে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার প্রায় ১২শতাধিক ঘর-বাড়ি এবং অসংখ্য গাছ পালা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গন
কবলিত এলাকার বহু লোকজন ঘর-বাড়ি হারিয়ে এখন ঠাই নিয়েছে রাস্তার ধারে, অন্যের জমিতে এবং স্কুলের মাঠে। গৃহপালিত প্রাণী গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী ও শিশু বাচ্চাদের নিয়ে খেয়ে না খেয়ে খোলা আকাশের নীচে
মানবেতর জীবন যাপন করছে ।

এছাড়া যদুমাতব্বর পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফেরি ঘাট এলাকায় একটি মসজিদ ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোন সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে দৌলতদিয়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়া ময়না বেগম বলেন, নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে ধোপাগাতি এলাকা থেকে ৭বছর আগে দৌলতদিয়া ১নং ফেরি ঘাট এলাকায় এসে বাড়ি করি। সে বাড়িটিও এবার নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এরপর আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে দৌলতদিয়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে খোলা আকাশের নীচে আশ্রয় নেয়া হয়েছে।

এখানে কত দিন থাকবেন তা বলতে পারছেন না তিনি। ২ মেয়ে ২ ছেলেসহ ৫জনের সংসার। দিন মজুরের কাজ করে একজনের উপর্জনের ওপর নির্ভশীল তাদের
পরিবার। এরমধ্যে নদী ভাঙ্গনরে শিকার হয়ে অনেক কষ্টে কাটছে তাদের দিন।

একই স্থানে আশ্রয় নেয় চম্পা বেগম বলেন, পর পর তিন বার নদী ভাঙ্গনের শিকার হন তিনি। পরিবারের সদস্য সংখ্যা সাত জন। স্বামী দিন মজুরের কাজ করে কোন রকমে ৭জনের সংসার চালান। নদী ভাঙ্গনের পর আশ্রয় নেন দৌলতদিয়া মডেল আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে।
মঞ্জু বেগম ধোপাগাতি এলাকায় নদী ভাঙ্গনের পর বাবার দেয়া দৌলতদিয়া ১নং ঘাটে এসে আবার বাড়ি করি। তাও এবার নদীতে ভেঙ্গে গেল।

বিশ বছরের মধ্যে এরকম নদী ভাঙ্গন দেখিনি কখনো। এবার যে ভাবে নদী ভাঙ্গছে তাতে দৌলতদিয়া ১নং ঘাটের পুরো অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে বলে তিনি
জানান।

উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহ আলম বলেন, জরুরি
ভিত্তিতে নদী ভাঙ্গন রোধে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। নদীতে বিলীন হওয়া ১ ও ২ নং ফেরি ঘাট সহজেই চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ নদী ভাঙ্গন অব্যহত রয়েছে। ফেরি ঘাটগুলো পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে। জায়গা সংকটতো
আছেই তারপর নদী স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত উক্ত ঘাট দু’টি স্থাপন করা  সম্ভব হবে না।

শাহজাহান বিশ্বাস/ মানিকগঞ্জ