বৃক্ষ আমাদের পরমবন্ধু। বৃক্ষ যেমনি আমাদের অক্সিজেন দেয়, তেমনি আমাদের রক্ষা করে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত থেকে।

এক কথায় বৃক্ষ আমাদের পরিবেশের ভারসম্য রক্ষা করার সাথে সাথে আমাদের বিভিন্ন প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে। তাই আমাদের সকলের দায়িত্ব বনায়ন রক্ষা করা। কিন্তু যাদের উপর সরকার দায়িত্ব দিয়েছে বনায়ন রক্ষা করার তারাই বন উজাড়ের সাথে জড়িত।

পটুয়াখালী সদর উপজেলাধীন বিভিনś এলাকায় প্রকাশ্যে এবং রাতের আধারে সরকারি রাস্তার পাশ থেকে বন বিভাগের গাছ কেটে নিচ্ছে অসাধু লোকজন। কিন্তু বন বিভাগ যেন দেখেও না দেখার ভান করছে।

কি কারণে তাদের এরকম ভূমিকা সেটা ভাবার বিষয়। বিভিনś এলাকায় সরকারি গাছ কাটতে দেখে বন বিভাগে ফোন করে জানালে তারা দায় সারার জন্য স্পটে গিয়ে যে গাছ কেটেছে তার জিম্মায় গাছ রেখে আসে। এ যেন শিয়ালের কাছে মুরগি পোষার মতো।

সদর উপজেলা সামাজিক বনায়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান এর বিরুদ্ধে অর্থের মাধ্যমে সরকারি গাছ বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সদর উপজেলাধীন বিভিন্ন এলাকায় গাছ কাটার অভিযোগ দিলে সে সেখানে গিয়ে অর্থের মাধ্যমে গাছ তাদেরকে দিয়ে চলে আসে এবং বলে আমি গাছ উদ্ধার করে জিম্মায় রেখে এসেছি। কিন্তু তার দায়িত্ব ছিল যে সরকারি গাছ কেটেছে তার নামে রেগুলার মামলা করা।

কিন্তু সে সেটা করে না। ২০ জানুয়ারী সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় সদর উপজেলাধীন সেহাকাঠী বাজারে বন বিভাগের একটি বড় রেইনট্রি গাছ কিছু অসাধু লোক কেটে নিচ্ছে যার আনুমানিক মূল ত্রিশ হাজার টাকা।

এরকম অনেক গাছ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন কেটে নিচ্ছে। বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারী থাকলে এরকম বন উজাড় কর্মকান্ড অনেকটা কমে আসতো বলে সচেতন নাগরিকদের ধারনা।

এ বিষয়ে মোঃ মাহবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে সে জানায়- সরকারি গাছ কাটার খবর শুনে স্পটে গিয়ে গাছ উদ্ধার করে স্থাণীয়দের জিম্মায় রেখে আসি কারন তৎক্ষনিক গাছ আনা সম্ভব হয় না। আর টাকার মাধ্যমে আমি গাছ বিক্রি করি এটা মিথ্যা।

এ বিষয়ে সহকারি বন কর্মকর্তা দেবাশিষ মুখার্জি সাথে কথা বললে তিনি জানান- সরকারি গাছ কাটার খবর পেলে আমি স্পটে লোক পাঠাই।

তবে যে গাছ কাটে তার বিরুদ্ধে রেগুলার মামলা দেওয়া উচিত এবং উদ্ধার করা গাছ মিজারমেন্ট করে স্থাণীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারের অথবা বনায়ন বেনিফিসিয়ারি কমিটির সভাপতির জিম্মায় রাখা দরকার।

-জান্নাতুল ফেরদৌস