‘ন ডরাই’

গত শুক্রবার বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে তিনটি ছবি মুক্তি পায়। এর মধ্যে আছে কলকাতা থেকে আমদানি করা ছবি ‘পাসওয়ার্ড, বাংলাদেশের ‘ইন্দুবালা’ ও ন ডরাই। এর মধ্যে পাসওয়ার্ড ও ইন্দুবালা নিয়ম মেনে মুক্তি দিলেও ‘ন ডরাই’ মুক্তিতে নিয়ম মানা হয়নি। ছবিটি মুক্তি দিতে অন্য দুটি ছবির প্রযোজকের সঙ্গে আলাপও করেননি।

বিষয়টি জানার পরই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রযোজক সমিতি গত ন ডরাইয়ের প্রযোজককে ৩০ নভেম্বর নোটিশ পাঠায় ‘ন ডরাই’-এর প্রযোজককে।

নোটিশের জবাবে ন ডরাই ছবির প্রযোজক মাহবুবর রহমান রুহেল জানিয়েছেন, ‘এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল’।

জানা যায়, বাংলাদেশে ঈদ ছাড়া কোন সপ্তাহে দুটির বেশি ছবি মুক্তির দেয়া যাবেনা। এমন নিয়মই চলে আসছে এতোদিন। তবে দুইয়ের অধিক সিনেমা যদি মুক্তি দিতেই হয় তাহলে এর জন্য মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত করা দুই ছবির প্রযোজক নিজেদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে মুক্তি দিতে পারবেন।

নোটিশের উত্তরে প্রযোজক মাহবুবর রহমান রুহেল লিখেছেন, আমি প্রযোজক হিসেবে নতুন এবং এই সংগঠনের নতুন সদস্য। অনেক নিয়ম এখনও আমার জানা নেই। তাই এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল। প্রযোজক সমিতির কাছে সুষ্ঠু সমাধান চাইছি, যাতে আগামীতে আরও সিনেমায় লগ্নি করতে পারি।’

এ প্রসঙ্গে প্রযোজক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সমিতি থেকে নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। তিনদিনের মধ্যে উত্তর চাওয়া হয়েছিল, এসেছে। এ মাসের শেষের দিকে নির্বাহি কমিটির মিটিং সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে ‘সার্ফিং’ নিয়ে দেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ন ডরাই’-এর সেন্সর বাতিল ও প্রদর্শনী বন্ধে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিব, ছবিটির প্রযোজক মাহবুব রহমান, পরিচালক তানিম রহমান অংশু ও চিত্রনাট্যকার শ্যামল সেনগুপ্ত বরাবর চলচ্চিত্রটি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) জনস্বার্থে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হুজ্জাতুল ইসলাম এ নোটিশ প্রেরণ করেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, এই চলচ্চিত্রে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর স্ত্রী হযরত আয়শা (রা.) সম্পর্কে বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও চলচ্চিত্রের কিছু অংশ অশ্লীল ও অনৈতিক। তাই এসব বিষয়ে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত সৃষ্টি করবে।

চলচ্চিত্রটির প্রযোজক, পরিচালক এবং চিত্রনাট্যকার সস্তা প্রচারণার উদ্দেশ্যে ধর্মীয় উস্কানিমূলক পথ বেছে নিয়েছেন।

তাই নোটিশে চলচ্চিত্রটির সেন্সর ও প্রদর্শন বাজার থেকে প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্টদের মুসলিম সমাজের কাছে ক্ষমা চাইতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নাহলে ৭২ ঘণ্টা পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত সার্ফিং নিয়ে দেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ন ডরাই’। ছবিটির মূল চরিত্রের নাম আয়শা। যিনি শত প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সার্ফিং করেন। এতে আয়শা চরিত্রে অভিনয় করেন সুনেরাহ্ বিনতে কামাল। মূলত এই নামটি নিয়েই আপত্তি তোলেন আইনজীবী মো. হুজ্জাতুল ইসলাম।

স্টার সিনেপ্লেক্স প্রযোজিত আলোচিত এই ছবিটি গত ২৯ নভেম্বর দেশের ৮টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। এদিকে এই আইনি নোটিশ প্রসঙ্গে এখনও কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন সংশ্লিষ্ট প্রযোজক-পরিচালকরা।