এভাবেই কুপানো হয় রিফাতকে, পাশে স্ত্রী মিন্নি। ছবি : সংগৃহীত

আলোচিত রিফাত শরীফকে হত্যার ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত ছয় নম্বর আসামি রাব্বি আকনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টায় বরগুনা শহর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাব্বী আকন বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের কেওড়াবুনিয়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত রিফাত শরীফকে মারার মামলার এজাহারভূক্ত ৬ জনসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে একটি সূত্রে জানা যায়, রিফাতকে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে কথা বলতে পারে পুলিশ। বিশেষ করে নতুন ফাঁস হওয়া দুটি সিসিটিভির ফুটেজের সূত্র ধরে মিন্নির বক্তব্য জানতে চাওয়া হবে।

নতুন ওই ফুটেজের সূত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কোনো কোনো গণমাধ্যমে রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। গুঞ্জন উঠেছে- ঘটনার আগের দিন ও ঘটনার দিন মিন্নির সঙ্গে কথা বলেছে ঘাতক নয়ন বন্ড। এমনকি নয়ন বন্ডের মোটরসাইকেলে ঘুরেছেন তিনি।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে মিন্নি জানান, ঘটনার দিন বা আগের দিন নয়ন বন্ডের সঙ্গে তার কোনো কথা হয়নি। শুরু থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পক্ষ তাকে টার্গেট করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এসব কারণে মানসিকভাবে তিনি কিছুটা বিপর্যস্ত। ঘটনার আগের দিন মিন্নি রিফাত শরীফের এক আত্মীয়ের বাসায় পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে দাওয়াতে যান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়- মিন্নি শরিফ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে নয়ন বন্ডকে ‘স্যরি জান’ বলে মেসেজ পাঠানো হয়েছে। যদিও আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি বলছেন, ফেসবুকে তার কোনো আইডি নেই। তার নামে অনেক ভুয়া আইডি খোলা হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভির যে ফুটেজ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক উঠেছে, তাতে দেখা যায়, ঘটনার দিন কলেজের গেট থেকে বের হয়ে আসছিলেন মিন্নি। তার সঙ্গে ছিলেন রিফাত শরীফ। এদিক-সেদিক তাকিয়ে আবার রিফাতকে কলেজে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন মিন্নি। ওই সময় কলেজ গেট থেকে রিফাতকে ধরে সামনের দিকে নিয়ে যায় কিছু ছেলে। তখন মিন্নিকে হাঁটতে দেখা যায়। এর কয়েক সেকেন্ড পর নয়ন বন্ড ও অন্যরা রিফাতকে কিল-ঘুষি-লাথি মারতে শুরু করে। তখন মিন্নি তার স্বামীকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালান। রিফাতকে জখম করার পর ব্যাগ ও জুতা তুলে রিফাতকে খুঁজতে সামনে এগিয়ে যান।

যারা এ ভিডিওর কিছু দৃশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের ভাষ্য, তারা রিফাতকে ধরে নেওয়ার সময় কেন মিন্নি স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিলেন। কেন তারা তাকে টার্গেট করেনি? কেন স্বামীকে প্রথমে ধরতে না গিয়ে জুতা তোলার চেষ্টা করেছিলেন মিন্নি? এ ব্যাপারে মিন্নির ভাষ্য, ঘটনার কয়েক দিন আগে তার পা কেটে যায়। তাই জুতা ছাড়া তার হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিল। এ কারণে ঘটনার পরপরই আগে জুতা খুঁজছিলেন। পরে মিন্নি তার স্বামীকে নিয়ে হাসপাতালে যান। ঘটনার সময় ও পরে কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি।

সূত্র জানায়, রিফাত শরীফকে মারার ঘটনায় এরই মধ্যে নয়ন বন্ডের প্রধান সহযোগী রিফাত ফরাজীসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার নেপথ্য কাহিনী জানার চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে নিয়ে কলেজ থেকে ফেরার পথে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ একদল যুবক রিফাত শরীফকে রাম দা দিয়ে কোপায়। রিফাতের স্ত্রী আয়শা আটকানোর চেষ্টা করেন; কিন্তু তাদের থামানো যায়নি। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিফাতের মারা যায়।

এ মারার ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ পরদিন সকালে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় মামলা করেন।

আজকের পত্রিকা/এমইউ