বিপ্লব সুজন মাঝি। রূপপুর খেয়াঘাটের ইজারাদার ও মাঝি ছিল। এটি তার চারপুরুষের পেশা। নদীতে ব্রিজ হয়েছে। নৌকার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। সুজন মাঝি ঘাট ছাড়েনি। এখন সে ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালায়। সুজন মাঝির পেশা পরিবর্তন হয়ে গেলেও নাম পরিবর্তন হয়নি। বয়সের তুলনা তার মাথায় পাকা চুল বেশি। দাদি বলে এটা নাকি বাপ দাদার কাছ থেকে পেয়েছে। একদিন সকালে একটি অপূর্ব সুন্দরী মেয়ে রূপপুর ঘাটের ব্রিজের পাশে একটি গাছ তলায় দাঁড়িয়ে আছে। বদ ছেলেগুলো মেয়েটাকে উত্তক্ত করার চেষ্টা করেছিল। সুজন মাঝি প্রতিহত করে তাদের। ঘাট উঠে গেলেও সুজন মাঝির দ্বায়িত্ব ছেড়ে দেয়নি। মেয়েটির নাম নয়নতারা।

তাইজুল তাকে স্বপ্ন দেখিয়ে ঘর ছাড়া করেছে। সারাদিনেও তাইজুল আসে না। সন্ধ্যায় নয়নতারা নদীতে ঝাঁপ দেয়। সুজন নয়নতারাকে তুলে এনে থানায় দিয়ে আসতে বলে চলে যায়। দাদি আমেনা নিয়েই সুজনের সংসার। দাদি নাতির সম্পর্ক মিষ্টি হলেও এখন সুজনের বিয়ে নিয়ে দুইজনের মধ্যে প্রচন্ড দ্ব›দ্ব চলছে। সুজন নয়নতারাকে ঘাটে ফেলে আসলেও এই বাড়ীর পালিত ছেলে রহমত তাকে নিয়ে আসে সুজনের বাড়ীতে। সুজন জোর করে মেয়েটিকে তাড়িয়ে দিতে চাইলে দাদি বাঁধা দেয়। নয়নতারা পরিচয় দিলে সুজন নয়নতারা বাবার সাথে ফোনে কথা বলে। নয়নতারা বাবা নয়নতারাকে ঘরে তুলবে না বলে জানিয়ে দেয়। ইতিমধ্যে সুজনের মনে ধরে যায় নয়নতারার নিঃষ্পাপ মুখটি। তার সাদা চুল নয়নতারার সাথে খানিকটা দুরত্ব তৈরী করে দিচ্ছে দেখে কলপের কালি দিয়ে কালো করে সুজনের চুল। নয়নতারার মনের মধ্যেও সুজন মাঝি জায়গা করতে থাকে অল্প অল্প করে। সুজন সকল কিছু উপেক্ষা করে নয়নতারার সাথে মিষ্টি মুধুর সম্পর্ক গড়তে ব্যস্ত হয়ে থাকে। এগিয়ে যায় গল্প, দাদির স্বপ্ন পুরনের দিকে। বিয়ের দিন তারিখ ঠিক হয়ে যায়। হঠাৎ মিষ্টি প্রেমের গল্পে হাজির হয় তাইজুল। এখন কি করবে সুজন মাঝি? কি করবেন নয়নতারা? নাট্যকার সংঘের অনুষ্ঠান সম্পাদক নাট্যকার স্বাধীন শাহ্ধসঢ়; এর রচনায় গ্রামীন পেক্ষাপটে এমনই একটি নিটল প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মাতা আবু সুফিয়ান বিপ্লব নির্মান করেছে টেলিছবি নয়নতারা। অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, আনিসুর রহমান মিলন, মিস্টি জাহান, আবু সুফিয়ান বিপ্লব, শিখা কর্মকার, ফুয়াদ সিদ্দিকী, রবিন, চন্দন রেজা ও আরো অনেকে। নাটকটি আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটিতে দেখা যাবে চ্যানেল আইয়ের পর্দায়।

আনিসুল হক মিলন প্রেমে পড়লো ঘর পালানো মেয়ে নয়নতারার দাদি দিলারা জামান হাতে লাঠি নিয়ে তাড়া করেছে নাতি আনিসুল হক মিলনকে।
দুইজনের এই জগতে আপন বলতে তারাই দুইজন। দিলারা জামার মিলনকে বিয়ে দিতে চায় কিন্তু মিলন বিয়ে করবে না করে জানিয়ে দেয়। দশ বছর আগে ভালবাসার রুপালীকে বিয়ে করে ঘর বেঁধেছিল মিলন। রুপালী তাকে ছেড়ে চিরদিনের জন্যে বিদায় নিয়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে। রুপালী জায়গা মিলন কাউকেই দিতে পারবে না। নির্মাতা আবু সুফিয়ান বিপ্লব দীর্ঘ বিরতীর পর এমনই একটি গল্প নিয়ে নির্মান করেছে টেলিছবি নয়নতারা। আনিসুল হক মিলনের সাথে আবু সুফিয়ান বিপ্লব জুটির এই প্রথম কাজ নয়নতারা।

টেলিফিল্ম সম্পর্কে মিলন বলেন, অসাধারন একটি গল্প নয়নতারা। গ্রাম বাংলার চির চেনা গল্প হলেও নাট্যকার ভিন্নভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন গল্পটি। সংলাপেও যথেষ্ট যত্ন নিয়েছেন। আবু সুফিয়ান বিপ্লবের সাথে এটাই আমার প্রথম কাজ। যত্ন নিয়ে কাজটি করেছেন উনি। নাটকটিতে আমাকে ভিন্নভাবেই দেখতে পাবে দর্শক। আমার বিশ্বাস দর্শকের কাছে নয়নতারা ভাল লাগবে। দিলারা জামান বলেন, গল্পটি ভাল। প্রেমের গল্প হলেও টেলিফিল্মটিতে সমাজের গুরুত্বপূর্ন ম্যাসেজ আছে। পৃথিবী এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে পেশার পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে সেটিও দেখতে পাওয়া যাবে নাটকটিতে। খুব আনন্দ নিয়ে
কাজ করেছি। দর্শক নয়নতারা দেখে নিরাশ হবে না। স্বাধীন শাহ্ধসঢ়;র রচনায় ও আবু সুফিয়ান বিপ্লবের পরিচালনায় টেলিছবি নয়নতারা আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটিতে দেখা যাবে চ্যানেল আইয়ের পর্দায়।

আজকের পত্রিকা/এসএমএস