কাজী ফয়সাল
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। ছবি : আজকের পত্রিকা

ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জব্দ করা ৪ টি নমুনা পরীক্ষা করে দাহ্য পদার্থ হিসেবে কেরোসিন ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির রাসায়নিক পরীক্ষাগারের প্রধান পরীক্ষক ড. দিলীপ কুমার সাহা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে জানান, ওই নমুনাগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষার পর ১৩ মে সোমবার প্রতিবেদন দাখিল করেছে সিআইডি। ওই প্রতিবেদনেই এমন  তথ্য উঠে এসেছে।

ড. দিলীপ বলেন, আমরা ১৩ মে পরীক্ষা শেষ করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। হত্যা সংশ্লিষ্ট জব্দ করা আলামতে দাহ্য পদার্থের নমুনা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ নুসরাত হত্যাকাণ্ডে কেরোসিন ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে।

সিআইডি রাসায়নিক পরীক্ষাগার সূত্রে জানা যায়, নুসরাত হত্যার জব্দ করা আলামত পরীক্ষার জন্য গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি, ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রিসহ বিভিন্ন আধুনিক  প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমেই জব্দ করা আলামতের নমুনায় কেরোসিনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।

সিআইডি রাসায়নিক পরীক্ষাগারের এক রাসায়নিক পরীক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কেরোসিন ব্যবহারে নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দেওয়ার বিষয়টি এতোদিন মৌখিক অভিযোগ আকারে ছিলো। আবার জিজ্ঞাসাবাদে কেরোসিন ব্যবহারের তথ্য উঠে এলেও বিশেষজ্ঞ মতামত ছিলো না। আমরা নুসরাতের সালোয়ার ও বোরকার পোড়া অংশ ও ঘটনাস্থলে থাকা দুটি কালো রঙের পলিথিন নমুনা হিসেবে পেয়েছিলাম। সেগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে কেরোসিনের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছি।

ওই পরীক্ষক আরো বলেন, পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) চলতি মে মাসেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা জানিয়েছে। আমাদের রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।

চলতি বছরের ৬ এপ্রিল নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় পরীক্ষা দিতে গেলে তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে দিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ওই দিনই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে নুসরাত।

এর আগে, নুসরাতকে যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এবছরেরই ২৭ মার্চ পুলিশ গ্রেফতার করে নুসরাতের মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে। কারাগারে থেকেই তিনি নুসরাতের পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। নুসরাতের পরিবার সে চাপে নমনীয় না হলে কারাগারের ভেতরে থেকেই নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেন সিরাজ। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই ৬ এপ্রিল সিরাজের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন দেয়।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত এজহারভুক্ত ৮ আসামিসহ ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছে।

আলোচিত এ মামলা তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে পিবিআই। এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় ইতোমধ্যে ফেনীর পুলিশ সুপার ও সোনাগাজী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করেছে পুলিশ সদর দফতর। পিবিআই বলছে, মে মাসেই তারা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য তদন্ত কাজ সম্পন্ন করছে।

আজকের পত্রিকা/কেএফ/আ.স্ব