ফেনীর নির্যাতিতা নুসরাত। ছবি: সংগৃহীত

বহুল আলোচিত মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই দিনেই ৯ আসামীকে গ্রেফতার করেছিলেন সোনাগাজী মডেল থানা থেকে বদলী হওয়া ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন। এছাড়া তিনি দুইজন সাক্ষীর জবানবন্ধীও নিয়েছিলেন।

সোমবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে সাক্ষ্যপ্রদানকালে আদালতকে এ তথ্য জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নুসরাত রাফি হত্যা মামলায় গতকাল সোমবার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন আদালতে সাক্ষ্য দেন। কামাল হোসেন আদালতকে জানান, ‘ঘটনার পর ৮ এপ্রিল রাফির ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। তখন মামলার তদন্তের দায়িত্ব তাকে দেয়া হয়।

ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৯ আসামীকে গ্রেফতার করি। এদের মধ্যে ৪ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী দিয়েছে। অপর ৪ জন আদালত থেকে অব্যাহতি পান। এরপর ১০ এপ্রিল মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে পিবিআই পরিদর্শক মো: শাহআলম নতুন করে তদন্তের দায়িত্ব পান।’ আসামী পক্ষের আইনজীবী আহসান কবির বেঙ্গল তাকে জেরা করেন। আজ মঙ্গলবারও তাকে জেরা করা হবে।

পিপি হাফেজ আহম্মদ জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের সহকারি রেজিষ্ট্রার ডা. মো: ওবায়দুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও তিনি উপস্থিত না হওয়ায় আগামী রবিবার পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করেন আদালত। আলোচিত এ হত্যা মামলায় সোমবার পর্যন্ত ৮৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা চলছে।

প্রসঙ্গত; গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আলোচিত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলম আদালতে মোট ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্রের ১৬ আসামি হলেন মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজী পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদরাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল। এ মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় পিবিআই অন্য ৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করলে আদালত তা অনুমোদন করেন। গত ২৭ জুন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাত রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ মামলার চার্জশিট জমা দেওয়ার আগে ৭ জন সাক্ষী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ মামলায় গ্রেফতারকৃত মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

আলী হায়দার মানিক/ফেনী