ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। ছবি : আজকের পত্রিকা

ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি তার ক্লাসমেট মোহাম্মদ শামীমকে (১৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ১৫ এপ্রিল সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে সোনাগাজীর চরচান্দিয়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়।

ফেনী পিবিআইয়ের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলীম পরিক্ষার্থী।

শামীমকে নিয়ে এখন পর্যন্ত নুসরাত হত্যাকাণ্ডে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত বাকিরা হলো এজাহারভুক্ত আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা (৫৫), মাদরাসার ছাত্র নূর উদ্দিন (২০) ও শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম (৪৫), জোবায়ের আহম্মেদ (২০), জাবেদ হোসেন (১৯) এবং আফসার উদ্দিন (৩৫)। সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার কেফায়েত উল্লাহ জনি, সাইদুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, উম্মে সুলতানা পপি, নূর হোসেন ও আলাউদ্দিন।

নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দ্দৌলার বিরুদ্ধে তাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিলো। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম ক্লাসের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কোরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান।

এই ঘটনায় নুসরাতের ডাইং ডিক্লেয়ারেশনে ১৫ এপ্রিল সোমবার শামীম ছাড়াও শম্পা ওরফে চম্পা নামের এক ছাত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই দিন সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন ব্যারিস্টার সুমন। ঢাকার মহানগর জজ আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন তিনি। মামলায় নুসরাতের ভিডিও ফাঁস ও নুসরাত নাটক করেছে, ওসির এমন মন্তব্য প্রচারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

আজকের পত্রিকা/কেএফ/জেবি