নির্যাতিত শিশুর দায়িত্ব নিলেন জেলা প্রশাসক। ছবি : সংগৃহীত

বাবা-মায়ের হাতে নির্যাতনের শিকার শিশু আশামনির চিকিৎসার খোঁজ নিতে কুড়িগ্রামের উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন।

২৪ এপ্রিল বুধবার বিকালে তিনি সিভিল সার্জন ডা. এস.এম আমিনুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকারকে সঙ্গে নিয়ে আশামনির সার্বিক খোঁজ খবর নেন। এসময় তিনি নগদ অর্থ, নতুন জামা কাপড়সহ উন্নত চিকিৎসার জন্য সব দায়িত্ব নেন।

জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন বলেন, আশামনির উজ্জ্বল ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ জীবনের চিন্তা করে আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

শিশু নির্যাতনের ঘটনাটি এখন কুড়িগ্রাম জেলা জুড়েই ‘টক অব দ্যা টাউন’। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আশরাফুল আলমকে গ্রেফতার করে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

জেলার উলিপুর উপজেলার শিশু নির্যাতনের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি গোচর হয়। নির্যাতনের ঘটনায় পাষণ্ড বাবা আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে শিশুটির পালিত বাবা ইদ্রিস আলী উলিপুর থানায় মামলা করেন। পরে আশরাফুল আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, জেলার উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের মাদারটারি গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে আশরাফুল আলম ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম কন্যা সন্তান আশামনিকে (৪) প্রতিনিয়ত শারীরিক নির্যাতন করত।

এরই এক পর্যায়ে গত সোমবার তুচ্ছ ঘটনায় নির্যাতন চালানো হয়। শিশুটি গুরুত্বর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে এলাকাবাসী শিশুটি উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে এবং বাবা-মাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ শিশুটির বাবাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

ইদ্রিস আলী জানান, শিশুটিকে তার বাবা-মা ৪০দিন বয়সে তার স্ত্রীর কাছে রেখে ঢাকায় গার্মেন্টেসের কাজে যায়। টানা সাড়ে ৩ বছর এই শিশুটিকে তারা লালন-পালন করে। ছয় মাস আগে তারা বাড়িতে ফিরে এসে তারা শিশুটিকে নিয়ে যায়।

কিন্তু অবোধ এই শিশুটি আমাদেরকেই বাবা-মা হিসেবে জানতো ও ডাকতো। গত সোমবারের ঘটনায় শিশুটি সজ্ঞাহীন হয়ে পরলে তাকে উলিপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস