এম. এ. আর. শায়েল
সিনিয়র সাব এডিটর

নির্দেশ অমান্য করার সংবাদ প্রকাশ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের গালিগালাজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্লাস, পরীক্ষার চলার সময়ে একাডেমিক ভবনের আশেপাশে মাইক বাজানো, র‍্যাগ ডে পালন, জোরে হর্ণ বাজানো, সাউন্ড বক্স বাজানোসহ সকল উচ্চ শব্দ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে অনেক আগেই। তবে এই নির্দেশ অমান্য করে র‍্যাগ ডে পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

পরবর্তীতে একাডেমিক ভবনে পরীক্ষারত শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এই সংবাদের প্রতিবাদে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্রাব্য ভাষায় স্ট্যাটাস ও গালিগালাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার ইতিহাস বিভাগ ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের র‍্যাগ ডে র‍্যালিটি সাউন্ড বক্স নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে পরীক্ষারত শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভবনের একজন শিক্ষক নিষেধ করার পরও তারা সাউন্ড বক্স বন্ধ করেন নি। অবশেষে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর উপস্থিত হন এবং কেন তাকে না জানিয়ে র‍্যাগ ডে পালন হচ্ছে সে বিষয়ে জানতে চান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। শিক্ষার্থীদের সাথে ছবিও তুলেন প্রক্টর। তবে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে শুরু করে ওই দুটো বিভাগের শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে তারা যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কমেন্ট বক্সে নানান ধরনের অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার ও গালিগালাজ করেছেন।

সংবাদ কর্মী আসিফ আহমেদ জানান, একাডেমিক ভবনে পরীক্ষারত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ জানানোর পর সংবাদ প্রকাশ করে বিষয়টি সকলের দৃষ্টিতে নিয়ে আসার চেষ্টা করি। প্রক্টরকেও জানানো হয় যে, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা কেউ মানছেন না। এই সংবাদ প্রকাশ করার পর থেকে অনেকেই আমার পক্ষে প্রশংসা করছেন। তবে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী কমেন্টে এবং ইনবক্সে নানান ধরনের অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করে অপমান করতে চাচ্ছেন। তাছাড়া গালিগালাজ তো আছেই। যা আপাতত অসহ্য লাগছে। তাদের অধিকাংশই নৃবিজ্ঞান এবং ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী।

সরদার সোহেল নামে নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী লিখেন, সাংবাদিকতায় কিছু (….) পুলাপাইন ঢুকেছে। নাপিতের দলেরা যা পায় তা দিয়েই সংবাদ করতে শুরু করে। একাডেমিক কার্যক্রম চলার সময় র‍্যাগ ডে পালন করলে কি এমন সমস্যা হয়!

নৃবিজ্ঞান বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী কমেন্ট বক্সে জানান, র‍্যাগ ডে পালন করে অন্যায় কিছু করা হয় নি। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অনেকেই মানেনা। নৃবিজ্ঞান বিভাগ একটু উল্লাস করতেই দোষ হয়ে গেছে! সাংবাদিকদের এসব ছোটখাটো বিষয়ে এত বড় সংবাদ প্রকাশ করার মানে হয় না। তাছাড়া অনেকেই জানতো না যে র‍্যাগ ডে পালন নিষেধ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সাংবাদিকরা বলছেন, বিষয়টি অনেকের অসুবিধা হওয়ায় নিউজ করা হয়েছে। নিউজ ভ্যালু আছে। কারণ এইসব উচ্চ শব্দের ফলে অনেকের ক্ষতি হয়। তাছাড়া প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করার সংবাদ প্রকাশ করা স্বাভাবিক বিষয়। যাদের বিপক্ষে সংবাদ প্রকাশ হয় তারা অপছন্দ করবেন সেটা অনুমেয়।

এসব বিষয় নিয়ে প্রক্টর লুৎফর রহমান বলেন, গতকাল এই র‍্যাগ ডে পালন করা নিয়ে অভিযোগ আসে। আমি তৎক্ষনাৎ হাজির হই এবং তাদেরকে সরিয়ে দেই। আমরা চাই না কারোর ক্ষতি হোক পরীক্ষা বা পড়াশোনায়। তবে আনন্দের দরকার আছে। তাই আমাদের উচিত একাডেমিক ভবনের বাইরে সাউন্ড বক্স বাজানো। সাংবাদিকরা তো নিউজ করবেই৷ এটা নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। যাইহোক, বিষয়টি ভালোভাবে মিটে গেলেই হবে।

এমএ জাহাঙ্গীর/রাবি