নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মুখ নিয়ে কথা বলেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ছবি:সংগৃহীত

২০১৫ এবং ২০১৬ সালে জঙ্গি হামলার কারণে বাংলাদেশে খেলতে আসেনি অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। অথচ, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বাইরের কোনো দেশে সফর করতে গেলে তাদের জন্য যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা রীতিমত বিস্ময়কর। নামমাত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিরাপত্তাই নেওয়া হয় না ক্রিকেটারদের জন্য। সেটা যে কতটা সত্য, তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর।

জানা গেছে, ক্রিকেটারদের সঙ্গে ওই সময় ন্যুনতম একজনও নিরাপত্তারক্ষী ছিল না। এমনকি টিমের লিঁয়াজো অফিসার পর্যন্ত ছিল না তামিম-মুশফিকদের সঙ্গে। এমন নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ক্রাইস্টচার্চে কঠিন বিপদের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ৫ মিনিটের হেরফের হলেই হয়তো, দেশের মূল্যবান সম্পদ ক্রিকেটারদের হারাতে হতো এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায়।

এসব বিষয় নিয়ে আজ নিজ বাসায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সেখানে তিনি এর উত্তর দিয়েছেন এবং এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে যাতে বাংলাদেশ দলের আর কোনো সফর এমন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে অনুষ্ঠিত না হয়, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশে বিদেশি দলগুলোর জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সবার আগে উল্লেখ করেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের মাটিতে যে কোনো ক্রিকেট দলের সফরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। রীতিমত ভিভিআইপি মর্যাদা দেয়া হয় এবং যতটা নিশ্চিদ্র সম্ভব, ততটা নিশ্চিদ্র নিরাপত্তাই দেওয়া হয়।’

বিদেশে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলেই স্বীকার করে নেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমরা বিদেশে গেলেও সে ধরনের নিরাপত্তা পাই না। এখন থেকে যেকোনো বিদেশ সফরে গেলে, বিশেষ করে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে বিসিবি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেট করে দেবে। মানদন্ড তৈরি করে দেবে। যদি সেই স্ট্যান্ডার্ডের নিরাপত্তা দেওয়া না হয়, প্রয়োজনে আমরা সেই সফর বাতিল করবো কিংবা সিরিজই খেলতে যাবো না।’

অর্থ্যাৎ, বিসিবি এখন থেকে প্রতিটি সিরিজে একটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার মানদন্ড নির্ধারণ করে দেবে প্রতিপক্ষ দেশকে এবং বিসিবি পরিষ্কার জানিয়ে দেবে, আমাদের এই ধরনের নিরাপত্তা চাই। কেবলমাত্র সেই নিরাপত্তা পেলেই আগামীতে বাংলাদেশ দল কোনো দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ খেলতে বাইরে যাবে।

আজকের পত্রিকা/এসএমএস/সিফাত