জামিল হোসেন মিলন।ছবি :সংগৃহীত

নাটোরের নিখোঁজ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী জামিল হোসেন মিলন নিখোঁজের ১১২ দিন পর নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছেন। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি তিনি নিখোঁজ হন।

২২ মে বৃহস্পতিবার ভোরে তিনি শহরের হাফ রাস্তা তালতলার তার নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। তবে  কে বা কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল বা কোথায় রেখেছিল তিনি তা বলতে পারছে না। বাড়িতে জীবিত অবস্থায় ফিরে আসায় তার পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে গেছে।

এলাকার মানুষ তাকে চোখে দেখার জন্য তার বাড়িতে ভিড় জমিয়েছে। মিলন হোসেন জানান, গত ৩১ জানুয়ারি তাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে নিয়ে গিয়ে একটি ৪/৪ ফুট একটি বাথরুমে আটকে রাখা হয়। সেখানেই তাকে দরজার নিচে দিয়ে খাবার দেয়া হতো। কোথায় তা তিনি জানতে পারেনি।

২১ মে বুধবার রাতে তাকে পুনরায় চোখ বেঁধে ৩/৪ বার গাড়ি বদল করে ঢাকার আব্দুল্লাপুর এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় তার হাতে দুই হাজার টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি বাসযোগে ভোর বেলা নাটোরে ফিরে আসে।

উল্লেখ্য, নাটোর গত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী জামিল হোসেন মিলনকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছিল মিলনের পরিবার।

মিলনের বাবা এমদাদুল হক নিয়াজী বলেছিলেন ৩১ জানুয়ারি রাত একটার একটি মাইক্রোবাস যোগে কয়েকজন সাদা পোশাকধারী তার বাড়িতে গিয়ে কোনো রকম কথা না বলেই মিলনকে তুলে নিয়ে যায়। এর প্রতিবাদে সড়কে বসে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছিল এলাকাবাসী। পরে পুলিশের আশ্বাসে তারা বিক্ষোভ মিছিল বন্ধ করে।

মিলন শহরের তালতলা হাফরাস্তা এলাকার এমদাদুল হক নিয়াজীর ছেলে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছিল।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ফরিদুল ইসলাম জানান, মিলনকে কে বা কাহারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নিয়ে গেছে তাদের জানা নাই। বিষয়টি জানার পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হচ্ছে।

আজকের পত্রিকা/ পরিতোষ অধিকারী/নাটোর/রাফাত/জেবি