ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে অন্য ধর্মের নারীদের সাথে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আহডার্ন মাথায় হিজাব পরে নিহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর জন্য হ্যাগলি পার্কে উপস্থিত হন। ছবি: সংগৃহীত

ঠিক এক সপ্তাহ আগে ১৫ মার্চ শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসলিমদের ওপর হামলা চালায় অস্ট্রেলীয় যুবক ব্রেনটন টারান্ট। ক্রাইস্টাচার্চে হামলা করেই সে শান্ত থাকেনি। কাছাকাছি লিনউড মসজিদেও হামলা চালিয়ে পাঁচ জন বাংলাদেশিসহ ৫০ জনকে হত্যা ও আরও ৫০ জনকে মারাত্মকভাবে আহত করেন শ্বেতাঙ্গ যুবক।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আহডার্ন ২১ মার্চ বৃহস্পতিবার দেশটিতে সব ধরনের আধা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। ২২ মার্চ শুক্রবার স্থানীয় সময় দেড়টার দিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিওতে জুমার নামাজের আজান এবং নামাজ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এরপর দেশ জুড়ে পালন করা হয় দুই মিনিটের নীরবতা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা, আল নুর মসজিদের কাছে হ্যাগলি পার্কে জুমার নামাজের আগে সমবেত হন হাজার হাজার শোকাহত মুসলমানদের উদ্দেশ্য সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড আপনাদের সঙ্গে শোকাহত, আমরা এক। অনেক নিউজিল্যান্ডবাসী হামলার পর থেকে দিনটিকে স্মরণ করতে চেয়েছেন এবং মসজিদে ফিরে আসা মুসলিমদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে চেয়েছেন। নীরবতা পালনের ভাষা একেকজনের একেক রকম হতে পারে। যে যেভাবে ঠিক মনে করবেন সেভাবে পালন করবেন। বাড়ি, কর্মস্থল, স্কুলে যে যেভাবে পারবেন।’

এ ছাড়া মুসলিমদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে আজ নিউজিল্যান্ডের অন্য ধর্মের নারীরাও মাথায় হিজাব পরে সমবেদনা জানানোর জন্য হ্যাগলি পার্কে উপস্থিত হন। জুমার নামাজের ইমামতি করেন ইমাম গামাল ফৌদা। ওই সময় তিনি বলেন, ‘বন্দুকধারী বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। আজ একই জায়গা থেকে তাকিয়ে মানুষের ভালোবাসা ও সহানুভূতি দেখতে পাচ্ছি। আমাদের হৃদয় ভেঙেছে, কিন্তু আমরা ভেঙে পড়িনি। আমরা বেঁচে আছি, আমরা একসঙ্গে আছি। আমাদের মধ্যে বিভক্তি আনতে দেব না কাউকে।’

দেশটি জুড়ে ২২ মার্চ অনেক মসজিদ খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। মসজিদের বাইরে সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধন করার কথা রয়েছে। নিউজিল্যান্ড সরকার ২২ মার্চ নিহত ব্যক্তিদের লাশ একসঙ্গে দাফনের ব্যবস্থা নেন।

আজকের পত্রিকা/এসএ/সিফাত