এক ভিডিও থেকে মিলেছে হামলাকারীর ছবি। ছবি:সংগৃহীত

নিউজিল্যান্ডে স্থানীয় সময় দুপুরে দুটি মসজিদে এক বন্দুকধারী হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় আল নুর মসজিদসহ আরেকটি মসজিদে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে মুসল্লিরা জুমার নামাজ পড়তে এসেছিলেন।

বন্দুকধারী হামলার ব্যাপারে বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, এতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। আবার স্থানীয় গণমাধ্যম স্টাফ ডট কো জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ২৭ জন। প্রত্যক্ষদর্শীরা মসজিদের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত অবস্থায় মানুষকে পড়ে থাকতে দেখেছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে এখনো কিছু বলা হয়নি। অনেককে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় আল নুর ও অপর একটি মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ পড়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক নারী ও তিন পুরুষসহ চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন এ হামলাকে ‘দেশটির ইতিহাসে অন্যতম কালো দিন’ বলে অভিহিত করেছেন।

লেন পেনহা নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেন, একজন কালো কাপড় পরা ব্যক্তিকে তিনি মসজিদে ঢুকতে দেখেছেন এবং এর পরেই এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের শব্দ শোনেন। নিরাপত্তা বাহিনী মসজিদে আসার আগেই তিনি ওই বন্দুকধারীদের পালিয়ে যেতে দেখেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমি সাহায্য করার জন্য মসজিদে যাই এবং ভেতরে অসংখ্য মৃত মানুষকে দেখি।’

জামায় রক্তের দাগসহ এক ব্যক্তিকে দেখা যায়, তিনি বলেন, গুলিবর্ষণের সময় তিনি একটি বেঞ্চের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। ওই সময় মসজিদের ভবনে অন্তত ৫০ ব্যক্তি ছিলেন। স্যাম ক্লার্ক নামে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে ছিলেন। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে তিনি বলেন, ‘একজন কালো কাপড় ও মাথায় হেলমেট পরা ব্যক্তি মেশিনগান নিয়ে মসজিদের পেছন থেকে ঢুকে পড়েন এবং সঙ্গে সঙ্গে গুলিবর্ষণ করতে থাকেন।’

মোহন ইব্রাহিম নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী নিউজিল্যান্ড হ্যারাল্ডকে বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম বিদ্যুতিক কোনো বিভ্রাটের কারণে বোধ হয় এরকম শব্দ হচ্ছে। কিন্তু পরক্ষণেই দেখলাম লোকজন দৌড়াতে শুরু করেছে। সেখানে আমার এক বন্ধুও ছিল। তাঁকে ডাকলেও কোনো সাড়া পাইনি। আমি তাঁর জন্য চিন্তিত। প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বন্দুকধারীকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন তাঁরা।

আজকের পত্রিকা/এসএমএস