ঢাকায় আটক নারী চোরের দল।

সিলেট বিভাগের অন্যতম একটি জেলা সুনামগঞ্জ। এ জেলাটি হাওর বেষ্টিত এলাকা। এখানকার যোগাযোগবিচ্ছিন্ন শাল্লা উপজেলা কামারগার গ্রামটির এক সময়ের নাম ছিলো ‘চোরের গ্রাম’। এ নামে বেশ খ্যাতিও ছিলো।

কিন্তু এক সময়ের ‘চোরের গ্রাম’ এখন অনেকটাই পরির্বতন হয়েছে। তারা ছেড়ে দিয়েছেন অসম্মানজনক এই চুরির পেশা। কিন্তু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় অন্যতম একটি গ্রাম। যার নাম ধরমণ্ডল। ১৪৩৬১ লোক সংখ্যার এ গ্রামে ৭০১৬ জন পুরুষ ও ৭৩৪৫ জন নারীর বসবাস।

এ গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ নারীদেরকেই তাদের উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে যুগের পর যুগ।

তবে এ গ্রামের নারীদের চুরির বৈশিষ্ট্য হলো, তারা জেলা ও আশপাশে তেমন একটা চুরি করেন না। দেশের বিভিন্ন জেলায় তারা চুরি করে থাকেন। দেশের প্রায় সব থানাতেই খোঁজ করলে এ গ্রামের নারীদের নামে চুরির মামলা পাওয়া যায়। এই নারীদের চুরি করা মালামালের তালিকায় প্রাধান্য পায় নারীদের গলার স্বর্ণের চেইন।

গত ১৭ মে ফেনির মডেল থানায় চুরির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলো এ গ্রামের পারভীন বেগম (৩৫), স্বামী: আজিজুর রহমান রণি, আকলিমা বেগম (৩৫), স্বামী: রহিম মিয়া, শারমিন বেগম (৩২), স্বামী: আব্দুল মালেক, মমতাজ বেগম (১৯), স্বামীঃ এমরান হোসেন ও রোজিনা বেগম (২৫) স্বামী: মো. মিজান।

এবার সেই ধরমণ্ডল গ্রামের সেই নারীচোরদের ৯ জন আটক হয়েছে ঢাকায়। তারা ঢাকায় এসেও উৎপাত শুরু করেছে। নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নের মহিলা চোরচক্রের ৯ সদস্য ঢাকার গুলশান থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত ১৭ মে চুরি করার অপরাধে গুলশান থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে বলে থানা জানা যায়।

তাদেরকে চুরির মামলা নং-২৪ দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো কাউছার মিয়ার স্ত্রী সেবিনা বেগম (৩০), মাসুক মিয়ার স্ত্রী জেসমিন বেগম (৩৫), বাবুল মিয়ার স্ত্রী নাসিমা বেগম (২২), লাল মিয়ার মেয়ে নাজমাা আক্তার (২০), শিপন মিয়ার স্ত্রী পারভীন আক্তার (৩০), জাহির মিয়ার স্ত্রী মীনা বেগম (৪০), সোবাহানের স্ত্রী আসমা বেগম (৩০), সুলমান মিয়ার স্ত্রী শরীফা বেগম (২৫) ও সেলিম মিয়ার স্ত্রী আঙ্গুরা খাতুন (৩৫) ।

মোঃ আব্দুল হান্নান/নাসিরনগর/ব্রাহ্মণবাড়িয়া/জেবি