শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল নারী সম্মাননা পুরষ্কার ২০১৯ প্রদান অনুষ্ঠানে এলজিআরডি মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম। ছবি : মন্ত্রণালয়

নারীর ক্ষমতায়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ও কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ২৪ মার্চ রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওস্থ এলজিইডি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল নারী সম্মাননা পুরস্কার ২০১৯ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

দিবসটি উপলক্ষে ১০ জন সফল নারীকে পুরস্কৃত করেন মাননীয় এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, এমপি।  এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো নারী-পুরুষ সমতায় নতুন বিশ্ব গড়ো’।

১০ জন সফল নারীকে পুরস্কৃত করেন মাননীয় এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ.তাজুল ইসলাম। ছবি : মন্ত্রণালয়

নারীকে ক্ষমতায়ন করতে এবং জেন্ডার বৈষম্য কমিয়ে আনতে একটি প্রকৌশল সংস্থা হয়েও এলজিইডি বিশাল ভূমিকা রেখে চলেছে গত ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে। অনগ্রসর নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে নারীর জন্য কর্মসংস্থান ও আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদে পরিণত করতে নারীদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নারী-পুরুষের বিভেদ দূর করতে পুরুষের সচেতনতা বাড়ানো, নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি প্রভৃতি ক্ষেত্রে এলজিইডি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে নারীর জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি, এলজিইডি সদর দপ্তরে শিশু দিবা যত্ন কেন্দ্র স্থাপন, নারীদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, পৃথক টয়লেট ইত্যাদি এলজিইডি’তে নারীবান্ধব সহায়ক কর্মপরিবেশ প্রতিষ্ঠায় একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ‘নারী সমাজকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। এশিয়ার, জাপান, চীন, সিংঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ যে সব দেশ আজ উন্নত হয়েছে সেখানে নারীরা আগে এগিয়ে এসেছে। নারীদের সহযোগিতা ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

এলজিআরডি মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশে নারী উন্নয়নে সাফল্য এসেছে।  মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারীদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন করছে। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি স্বপন ভট্টাচার্য্য, এমপি এলজিইডির এমন অনুষ্ঠানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, নারী জাগরণে এলজিইডি কাজ করে যাচ্ছে।  তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর এলজিইডি, আত্মনির্ভরশীল নারীদের সম্মাননা ও পুরস্কৃত করে নারী সমাজকে আরো স্বাবলম্বী করার প্রয়াস চালায় এলজিইডি।  তিনি আরো বলেন নারী সমাজের অধিকার আদায়েও কাজ করছে এলজিইডি।

পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, এমপি ১০ জন শ্রেষ্ঠ স্বাবলম্বী নারীকে এলজিইডি প্রদত্ত সম্মাননা পুরস্কার ও নগদ জনপ্রতি ১০,০০০ টাকা প্রদান করেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত নারীরা হচ্ছে, পল্লী উন্নয়নে রাহেলা বেগম, মোছা. ফরিদা ও স্মৃতি কণা মণ্ডল, নগর উন্নয়নে শিউলী রানী দে, জমিলা বেগম ও লিলি আক্তার, ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ সেক্টরে মোছা. মরতুজা বেগম, ইতি সুলতানা, নুরজাহান বিবি ও মায়া রানী বিশ্বাস।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয় সচিব এস. এম. গোলাম ফারুক, স্বাগত বক্তব্য রাখেন এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও সভাপতি এলজিইডি জেন্ডার ও উন্নয়ন ফোরাম মো. মোসলে উদ্দিন। আরো বক্তব্য রাখেন নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি ও সদস্য সচিব, এলজিইডি জেন্ডার ও উন্নয়ন ফোরাম সৈয়দা আসমা খাতুন। এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং এলজিইডি’র কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আজকের পত্রিকা/আ.স্ব/জেবি