ওসি আলীম। ফাইল ছবি

নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের পিকআপের ডিম নষ্টের ঘটনায় এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি নির্ধারিত তিন কর্ম দিবসের মধ্যেই তদন্ত শেষ করেছে। তদন্তের শেষ দিন ২১ মঙ্গলবার বিকেলে ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলীম সিকদারকে বগুড়া হাইওয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ক্লোজ করা হয়েছে ।

হাইওয়ে বগুড়া রেঞ্জের পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

একই সাথে নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন যোগদান করেছেন।

এর আগে এই ঘটনায় এসআই বিজয় কুমার সরকার, এটিএসআই আশরাফুল ইসলাম, কনস্টেবল সোহেল রানা, শামিম রেজা, বুলবুল আহমেদ ও চালক ফারুকসহ ৬ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে।

২১ মে মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট পুলিশ হেড কোয়ার্টারে জমা দিয়েছেন। তিনি জানান, তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার পর হেড কোয়ার্টারের মিডিয়া সেল তথ্য বিস্তারিত তথ্য প্রদান করবে।

এদিকে গত ১৬ মে বৃহস্পতিবার সকালে পিকআপ ভর্তি মুরগীর ডিম ভাঙ্গার পর তদন্ত কমিটির প্রধান ১৭ মে শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে ঘটনাস্থল বনপাড়া-হাটিকুমুরুল মহাসড়কের বড়াইগ্রামের বনপাড়া আগ্রান সূতিরপাড় এলাকা পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সাথে কথা বলেন।

গত সোমবার ডিম বহনকারী পিকআপ থানায় টেনে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত রেকারের চালক পারভেজ হোসেন, হেলপার মোখলেস আলীকে তদন্ত কমিটি বগুড়ায় ডেকে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৬ মে বৃহস্পতিবার সকালে ৩৫ হাজার একশ’ ডিম নিয়ে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থেকে বনপাড়া হয়ে যশোরে যাচ্ছিল একটি পিকআপ। পথে বড়াইগ্রামের আগ্রান সূতিরপাড় এলাকায় পিকআপটির চাকা পাংচার হয়ে গেলে সেটি পাশের ফিডার রোডে নেমে যায়। খবর পেয়ে বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসে।

এ সময় পুলিশ সদস্যরা পিকআপ উদ্ধারের জন্য রেকার ভাড়াসহ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করে। চালক এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সদস্যরা পিকআপে ডিমের খাঁচি বাধার রশি চাকু দিয়ে কেটে দেয়। তাতে প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকার ডিম নষ্ট হয় বলে অভিযোগ করেন ডিম ব্যবসায়ী।

পরিতোষ অধিকারী/নাটোর/এমএআরএস