নাগেশ্বরীতে স্কুলের ছাদে মৌমাছি

কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার একটি বিদ্যালয় ভবনে মৌমাছির ২২টি বাসা। কয়েকদিনের ব্যবধানে মৌমাছিগুলো বাসা বেধেঁছে বিদ্যালয়ের ছাদের তিন দিকের কার্নিশে। এ ঘটনাটি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার উত্তর কচাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

মৌমাছি বাসা বাঁধার কয়েকদিনে আট থেকে ১০ শিক্ষার্থীকে হুল ফুটিয়েছে। এরপর থেকে আতঙ্কে রয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। মৌমাছির আক্রমণ থেকে বাঁচতে দরজা-জানালা বন্ধ রেখে নেওয়া হচ্ছে বাৎসরিক পরীক্ষা।

স্থানীয়রা জানান, দু’একদিন পরপরই আসছে আরো নতুন নতুন মৌমাছি। নতুন করে চাক বোনাচ্ছে বিদ্যালয়ের ছাদের বিভিন্ন অংশে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, মাঝে মধ্যেই মৌমাছি উড়ে এসে শরীরে হুল ফুটিয়ে দেয়। তাই সবসময় ভয়ে থাকতে হয় তাদের।

উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, মৌমাছির ভয়ে চুপচাপ রুমে ঢুকে দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়ে স্কুলে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। রুমের দরজা-জানালা বন্ধ করে বাৎসরিক পরীক্ষা হচ্ছে।

আশপাশের বাসিন্দারাও দিন কাটাচ্ছেন মৌমাছির আতঙ্কে। স্থানীয় ছামসুল আলম জানান, জোরে বাতাস উঠলে সবাইকে ভয়ে থাকতে হয়। আবার পাখি এসে মৌচাকে আঘাত করলে বিপদ। এগুলো তাড়ানোর ব্যবস্থা করা দরকার।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা খুশি রাণী জানান, একটু বাতাস আসলে বা পাখি উড়লে মৌমাছির দল উড়তে থাকে। এসে আমদের আক্রমণ করে। মাথা, মুখ শরীরে হুল ফুটায়। দু’দিন আগে প্রথম শ্রেণির বেশ কয়েকজনকে হুল ফুটিয়ে আহত করেছে মৌমাছি।

উত্তর কচাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির সহ-সভাপতি তাইজুল ইসলাম বলেন, যখন কম ছিলো তখন আগুন জ্বালিয়ে মৌমাছি তাড়ানোর চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। বরং আরও অনেক এসেছে। বর্তমানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কহিনুর বেগম জানান, বিষয়টি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। নির্দেশনা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এছাহাক আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি। আগুন জ্বালিয়ে ধ্বংস করলে বিল্ডিং ভবন নষ্ট হতে পারে। ফায়ার সার্ভিসকে জানানোর কথা ভাবছি।

এজি লাভলু/কুড়িগ্রাম