জমির ক্ষতির বিষয়ে কথা বলছেন কৃষক।

কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরীতে উজানের পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় প্লাবিত হয়েছে শত শত গ্রাম। বন্যায় প্লাবিত অঞ্চলগুলোর পানি কমতে শুরু করলেও কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থরা জানিয়েছেন, বন্যার নিষ্ঠুর আচরণে তলিয়ে গেছে শাক-সবজি, আউশ ধান, বীজতলা, পাট, মরিচসহ বিভিন্ন কৃষি ক্ষেত। কৃষিতে ক্ষতির কারণে সবজির বাজারে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। দাম বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় কাচামালের।

উপজেলা সাপখাওয়া, চর লুছনি, ওয়াপদাবাজার, বেরুবাড়ি, চর বেরুবাড়ী, কালিগঞ্জ, ভিতরবন্দ, কচাকাট, কেদার, বল্লভেরখাষসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। বন্যায় ক্ষতি হয়ে মাথায় হাত উঠেছে কৃষকদের।

সাপখাওয়া বাজারের সবজি ব্যবসায়ী নুরুল আমিন জানান, বন্যায় সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় সেসব ক্ষেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এর প্রভাব এখন বাজারে। বেগুন, করলা, শষা, ঢেঁড়সসহ প্রায় সব সবজিতেই কেজি প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। না

গেশ্বরী পৌর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, কাচা মরিচ কিনতে গিয়ে কাচা মরিচ পাননি বাবলু মিয়া ।

সবজি ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম জানান, বন্যার কারণে মরিচ পাওয়া যায় না। দ্বিগুণ দামেও আমরাও এখন কিনতে পারি না। বন্যায় আয় না থাকায় এতে করে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ এবং বানভাসীরা।

এদিকে উপজেলার বেরুবাড়ি ইউনিয়নের গাছপাড়ি এলাকার কৃষক মজাহার আলী জানায় তিনি দের বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেছেন। সবজির মধ্যে রয়েছে করলা, শষা ও জালি কুমড়ো। খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা।

সবেমাত্র ফুল এসেছে এবং ফলনও শুরু হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এসব সবজি তুলে বিক্রি করতো বাজারে। এতে করে খরচ পুষিয়ে তার লাভ হতো ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। বিগত বছরেও তিনি একইভাবে ৮০ হাজার টাকা আয় করেছেন এই ক্ষেত থেকেই। কিন্তু দুর্ভাগ্য বন্যার পানিতে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষেতে প্রায় এক কোমর পানি।

গাছগুলো মরে গিয়ে হলদে রং ধারণ করেছে। সরকারিভাবে কোনো সহায়তা দিলে কিছুটা হলেও এ ক্ষতি পুষিয়ে পরবর্তীতে আবারও সবজি চাষ করতেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শামসুজ্জামান জানান, এবারের বন্যায় আউশ ধান প্রায় ১ হাজার হেক্টর, বীজতলা ৫শ ২০ হেক্টর এবং ৩শ হেক্টর জমির সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। এগুলো পুরোপুরি ক্ষতি হয়ে যাবে। তবে তলিয়ে যাওয়া পাটের পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণটা বোঝা যাবে।

শফিকুল ইসলাম শফি/নাগেশ্বরী