৯ ডিসেম্বর সোমবার রাতে ভারতের লোকসভায় পাস হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠেছে আসামে। রাজ্যটির বিভিন্ন স্থানে সোমবার রাত থেকে চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। এই বিক্ষোভ উত্তরপূর্বের অন্যান্য রাজ্যের ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে ১১ ঘণ্টার বনধের (ধর্মঘট) ডাক দিয়েছে নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস অরগানাইজেশন-এনইএসও। সোমবার রাতে লোকসভায় পাস হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিলটি উত্থাপন করেন। আন্দোলনকারীরা বলছেন, রাজ্যসভায় বিলটি পাস হয়ে গেলে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা সংখ্যালঘুরা পাঁচ বছর থাকলেই ভারতের নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন। মূলত এ কারণেই প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলো।

১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার আসামের ডিব্রুগড়, জোড়হাটে বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নেমেছে মানুষজন। সকাল থেকেই জোরহাট, বঙ্গাইগাঁওয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সংঘাতের কথা মাথায় রেখে আসামে বাতিল করা হয়েছে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা।নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস ওরগানাইজেশনের ডাকা বনধে মঙ্গলবার গুয়াহাটির বহু জায়গায় দোকানপাট বন্ধ। রাস্তায় মানুষজনের দেখা নেই। উত্তরপূর্বের রাজ্যের বনধকে সমর্থন করছে এসএফআই, ডিওয়াইএফআইসহ একাধিক বাম ছাত্র সংগঠন।

এর আগে সোমবার আসামে বনধের ডাক দেয় অল কোচ রাজবংশী স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন। মঙ্গলবারও সেখান বনধ চলছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আসামের লখিমপুর ও সোনিতপুর জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। চালু করা হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ হেল্পলাইন।

পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে বহু শরণার্থী এসে বছরের পর বছর ধরে বাস করছে বলে জানিয়ে আসছে ভারত। সেই শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বলে দাবি অমিত শাহের।

বিল পেশের পরই বিরোধীদের আক্রমণ ঠেকাতে অমিত শাহ বলেছেন, ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কারো অধিকার ছিনিয়ে নেবে না। বিলে ভেদাভেদ হচ্ছে বলে যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে এখনই এই বিল নিয়ে সংসদ ছেড়ে চলে যাব, এক শতাংশ সংখ্যালঘুবিরোধী নয় এই বিল। এই বিল পাস হলে কারও স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে না। ধর্মনিরপেক্ষতা স্বীকার করে কেন্দ্রীয় সরকার।’

আজকের পত্রিকা/সিফাত