এম. এ. আর. শায়েল
সিনিয়র সাব এডিটর

বৈদ্যুতিক তার। ইনসেটে ব্যারিস্ট্রার সুমন।

রাজধানী ঢাকার অলিগলিতে ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বিদ্যুতের তার। অপরিকল্পিতভাবে সংযোগ দেওয়া বিদ্যুতের তার নগরবাসীর কাছে রীতিমত আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে পুরান ঢাকার চকবাজারের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা। আর এ বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় আসা হাইকোর্টের আইনজীবি হবিগঞ্জের বাসিন্দা ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।

তিনি ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার নবাবপুর সড়কের বৈদ্যুতিক তার নিয়ে লাইভে আসেন। লাইভে এসে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন, বলেন, চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে ৭৮ জন মারা যান। এতে আমরা সহানুভূতি প্রকাশ করি। কিন্তু মানুষ মারা যাওয়ার আগে আমরা কোনো পদক্ষেপ নেই না।

নবাবপুরের বৈদ্যুতিক তার দেখাচ্ছেন ব্যরিস্ট্রার সুমন।

তিনি ঢাকার নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, নবাবপুরের বিদ্যুতের তার দেখলে মনে হয় এটি তারের যাদুকর। তিনি কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে এবং নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, নেতৃত্ব দেয়ার আগে, ভোট চাওয়ার আগে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, মানুষের কাছে ভোট চাচ্ছেন, তারা একবার নবাবপুরের সড়কে ঘুরে যান। তাহলেই দেখবেন নবাবপুরবাসী কতটা ঝুঁকিতে আছেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা যদি বানাতে হয় তাহলে মানুষের কষ্ট অনুভব করে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, মানুষের কষ্টে প্রধানমন্ত্রী যেমন কষ্ট পান, যারা ঢাকার নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারাও প্রধানমন্ত্রীর মতো মানুষের কষ্টগুলো অনুভব করেন।

তিনি আরও বলেন, আপনারা ভোট নেবেন নেন, কিন্তু নবাবপুরের মানুষকে আজাব থেকে রক্ষা করুন। চকবাজারের ৮০ জন মানুষের মতো নবাবপুরের ৮০ জন মরার আগে এ এলাকার মানুষকে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষার জন্য তিনি সিটি করপোরেশন, টিএন্ডডিসহ সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করেন।

জানা যায়, পুরান ঢাকার বিভিন্ন অলিগলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য বৈদ্যুতিক তার। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জীর্ণশীর্ণ তারের ফলে বিভিন্নভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে অনেক মানুষ নিহত হচ্নছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের এই বেহাল চিত্র প্রতিদিন চোখে পড়ে।

নবাবপুরের বৈদ্যুতিক তার ।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরান ঢাকার বিদ্যুতের সরবরাহ লাইনের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। বিদ্যুতের খুঁটিকে তারগুলো জালের মতো পেঁচিয়ে রয়েছে যাতে বোঝার উপায় নেই কোনো তারটি কিসের। এছাড়াও বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল, গুলিস্থান, ইসলামপুর ও যাত্রাবাড়ী ইত্যাদি এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এসব তার। এছাড়াও পুরোন ঢাকার নবাবপুর, শাখারী বাজার, বাবু বাজার, বংশাল, ইংলিশ রোড, নাজিমউদ্দিন রোড, ধোলাইখাল এর চিত্র ভয়াবহ। এ স্থানগুলোতে বিদ্যুতের খুটি ঘিরে তার গুলো জালের মত এলোপাতাড়ি পেছিয়ে রয়েছে। তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে পথচারীরদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সূত্রে জানা যায়, এক শ্রেণীর ডিস, ইন্টারনেট, জেনারেটর ব্যবসায়ী অসধুপায়ে এই সব সংযোগ দেয়। আর এক্ষেত্রে নিম্নমানের তার ব্যবহৃত হয়। এর ফলে প্রতিদিনই ঘটছে নগরীতে দুর্ঘটনা, হারাচ্ছে প্রাণ। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একেবারেই উদাসীন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে দিন দিন এর অবস্থা হয়ে দাঁড়াচ্ছে আরো শোচনীয়। বৈদ্যুতিক তার ছাড়াও অনেক খুটি ডিস, ইন্টারনেট, জেনারেটর, টেলিফোন ও বিভিন্ন ব্যানারের পুরাতন ও অকেজো যন্ত্রপাতির ফলে খুটি ভারসাম্যহীন হয়ে হেলে পড়েছে। অপরিকল্পিত ভাবে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে। ডিশ ব্যবসায়ীদের কারণে বিদ্যুতের পুরনো তার ও খুঁটি পরিবর্তন করা যাচ্ছে না।

এ অবস্থায় দিন দিন বিদ্যুতের বিতরণ ব্যবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একটি খুঁটিতে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ তার সংযুক্ত আছে বলে এ দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে তারের জরাজীর্নতার কারণে সংযোগচ্যূত লাইনগুলো মেরামত করতে অক্ষম হয়ে পরে প্রায়ই বিদ্যুত মেরামত অফিসের লোকজন। প্রতিবছর গ্রাহক সংখ্যা বাড়লেও বিদ্যুত লাইন মেরামত ও সংস্কারের কোন অগ্রগতি নেই, ফলে বিদ্যুতের অপব্যবহার বাড়ছে এবং বাড়ছে দেশের মানুষের দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা। বিদ্যুতের সুষম বন্টন না হওয়ার কারণে দেশ পিছিয়ে পড়ছে। সারিবদ্ধ ও পরিকল্পিতভাবে সংযোগ স্থাপন ও অপ্রয়োজনীয় তারের ব্যবস্থা গ্রহণ ও সঠিক খুটি স্থাপন করলে হয়ত এসব দৃর্ঘটনা ও দুর্ভোগ থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ভিডিও দেখুন-

এই তার গুলোর মালিক কারা?আবারও আগুনে পুড়াবেন?

Posted by Barrister Syed Sayedul Haque Suman on Wednesday, 27 February 2019