এম. এ. আর. শায়েল
সিনিয়র সাব এডিটর

জয়পুরহাটের নদীগুলোতে এভাবেই ফসল বোনা হচ্ছে

জেলা সংবাদদাতা
জয়পুরহাট জেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা ছোট যমুনা, তুলশীগঙ্গা, হারাবতি ও চিরিনদী এখন মরা খাল। নদী বলে কোনোটির মিলবে না কোনো চিহ্ন। যুগের পর যুগ নদী রক্ষণাবেক্ষণ না করা, দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এক সময়ের প্রমত্তা এই নদীগুলোর এমন দূরবস্থা বলে জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল এবং প্রবীণরা।
ছোট যমুনায় এক সময় পাল তোলা নৌকা চলতো, নদীপথে সাংসারিক বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করার দৃশ্য দেখা যেত, সকাল দুপুর বিকাল জেলেদের কোলাহলে মুখরিত থাকত নদীর দুই পাড়। সে ছোট যমুনা নদী এখন মরা খাল। কোনো কোনো জায়গায় আবার মিলানো যাবে না নদীর কোনো অস্তিত্ব। নাব্য হারিয়ে এক সময়ের প্রমত্তা ছোট যমুনার অস্তিত্বই এখন বিলীন হতে বসেছে। এখন নদীতে চাষ হচ্ছে ইরি বোরো ধানসহ অন্য ফসলের। শুধু ছোট যমুনা নয় জয়পুরহাটের ওপর দিয়ে বয়ে চলা তুলশীগঙ্গা, হারাবতি ও চিরিনদীর একই দশা। ভারতে জন্ম নেওয়া চিরিনদী জেলার পাঁচবিবি উপজেলার কল্যাণপুর থেকে শুরু করে আক্কেলপুর পর্যন্ত ৫৮ কিলোমিটারের এ নদীতে গেলে ৩০ কিলোমিটার নদীতে মিলবে না নদীর কোনো চিহ্ন। দখল হয়ে গেছে এ নদী। বর্ষার সময় যৎসামান্য পানি এ নদীতে এলেও দখলের কারণে নদীর গতিপথ হারিয়েছে। বাকি ২৮ কিলোমিটার নদীর কিছু চিহ্ন চোখে পড়লেও নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ায় কোনো পানি নেই এ নদীতে। এগুলোও এখন দখলের পর্যায়ে। এ নদীতে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন ফসল। নদীগুলো এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে।
তুলশীগঙ্গা ও হারাবতি নদী দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল থেকে শুরু হয়ে প্রথমে ছোট যমুনা পরে নওগাঁ জেলার আত্রাই নদীতে মিলিত হয়েছে। এই নদী দুটিতে বর্যা মৌসুমে পানি পাওয়া গেলেও খরা মৌসুমে কোনো পানি থাকছে না। দীর্ঘদিন থেকে নদী খনন এবং পাড় না বাঁধায় নদীগুলো একদিকে বেদখল হচ্ছে অপরদিকে নাব্য হারিয়ে তার অতীত ঐতিহ্য হারাচ্ছে। এ চারটি নদীর দৈন্যদশায় বেকার হয়ে পড়েছে প্রায় শতাধিক জেলে পরিবার। এখন তারা বাপ দাদার আদি পেশা ছেড়ে ভ্যান রিকশা চালাচ্ছেন। সদর উপজেলার দোয়ানী গ্রামের সতীশ চন্দ্র জানান, আগে বাবার সঙ্গে নদীতে মাছ ধরতেন এখন নদীতে পানি না থাকায় ভ্যান চালাতে হচ্ছে। সতীশের মতো দোয়ানী গ্রামের সুবির চন্দ্র, উত্তর জয়পুর গ্রামের সায়েম হোসেন একই কথা বললেন। তারা চান মাছ ধরার পেশাকেই বেছে নিতে। তাদের দাবি নদী খনন করে আবারও নদীকে তার আগের অবস্থায় ফিরে আনা হোক।
জয়পুরহাটে বেলার প্রতিনিধি অপূর্ব সরকার বলেন, নদীগুলোর অবৈধ দখল উচ্ছেদ অতি জরুরি। যদি এ অবস্থা চলতে থাকে কিছুদিন পর নদীরও কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, জয়পুরহাটের ওপর দিয়ে বয়ে চলা চারটি নদী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একশ চৌত্রিশ কোটি একচল্লিশ লাখ টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একনেকে পাস হলে নদীগুলোকে আগের মতো ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।