নখের খোঁচায় উঠে যাচ্ছে পিচ।

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার হাদীপুর-শ্মশানঘাট সড়কে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাতের নখের খোঁচায় পিচ উঠে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ইউএনওর নিকট অভিযোগ জানিয়েছেন। ইউএনও বিষয়টি দেখার জন্য প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, হাতের নখের খোঁচা দিয়ে সদ্য পিচ দেওয়া রাস্তার পিচ উঠে যাচ্ছে। রাস্তাটি সংস্কারের সময় এলাকাবাসী ঠিকাদারকে বার বার বললেও তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি। যেনতেনভাবে উন্নয়ন কাজটি করা হয়েছে। এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দিনেদুপুরে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে হরিলুট করা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমানের ইটের খোয়া ও নিন্মমানের সরঞ্জামাদি দিয়ে কাজ শুরু করেছেন।

উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকে জানায়, হাদীপুর মাদ্রাসা-শ্মশানঘাট পর্যন্ত ৯৭৫ মিটার ও সখিপুর আরঅ্যান্ডএইচ-কেয়ার রোড পর্যন্ত ৬৮৫ মিটার রাস্তা পিচ করার জন্য একটি প্যাকেজে ৫৪ লাখ ৭৮ হাজার ১৮৫ টাকা বরাদ্দ করা হয়। এলজিইডির আওতায় রাস্তা দুটির কাজ পায় মেসার্স সালেহা এন্টারপ্রাইজ। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক দেবহাটা উপজেলার খেজুরবাড়িয়া গ্রামের আবুল কালাম। দরপত্র অনুযায়ী কাজ শুরু চলতি বছরের ১১ এপ্রিল। কাজ শেষ হবে চলতি বছরের ২ জুলাই।

তবে রাস্তার কাজে অনিয়মের বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম বলেন, কেরোসিন বেশি পড়ে যাওয়ায় ও রাস্তার নিচে গরুর গোবর থাকায় পিচ উঠেছে। এছাড়া নখের খোঁচায় পিচ উঠে যায় না। স্থানীয় লোকজন কুবুদ্ধি করে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

অভিযোগের বিষয়ে দেবহাটা উপজেলা প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম জানান, রাস্তার যেখানে খারাপ করা হয়েছে সেখানে রাস্তা ঠিক করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে।

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি এলজিইডির সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

আজকের পত্রিকা/বৈশাখী/জেবি