সাশ্রয়ী দামে অনন্য একটি হ্যান্ডসেট, আকর্ষণীয় বডি, দিনের আলোতেও সামনের এবং পিছনের ক্যামেরার চমৎকার কর্মক্ষমতা, ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট, ফাস্ট ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানার। সন্দেহাতীত ভাবে বলা যায়, দাম বিবেচনায় নকিয়া ৫.১ প্লাস হবে ক্রেতাদের সঠিক পছন্দ। আকর্ষণীয় বডি সম্বলিত ফোনটি বাহ্যিক সৌন্দের্যের পাশাপাশি পারফরম্যান্সেও এগিয়ে আছে।

ডিজাইন
নকিয়া এই হ্যান্ডসেটটির ডিজাইনে এনেছে ঈর্ষণীয় পরিবর্তন। গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নকিয়া, সাশ্রয়ী দামের ফোনসেটটিতে নচ স্টাইল ডিসপ্লে এবং  গ্লাস স্যান্ডউইচ বডি সংযোজিত করেছে। প্লাষ্টিক নির্মিত মূল বডিতে গ্লস ফিনিশিং এর মাধ্যমে মেটাল লুক আনা হয়েছে। ফোনের রিয়ার পার্ট ২.৫ ডি গ্লাস নির্মিত। এতে করে কভার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না। নতুন এই ফোনটিতে আছে ৫.৮ ইঞ্চি পর্দার ডিসপ্লে। পর্দাটির আসপেক্ট রেশিও ১৯ : ৯, নিখুঁত ঝকঝকে বডি স্ট্রাকচারের সাথে সমন্বয় রেখে ডিসপ্লে ব্রাইটনেসও বৃদ্ধি করা হয়েছে। অপেক্ষাকৃত বেশি ভিউয়িং অ্যাঙ্গেলের পর্দাটিতে এইচডি মানের ভিডিও দেখা যাবে।

পারফর্মমেন্স
অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে ক্রেতারা এই ফোনটিতে পাবেন শক্তিশালী হেলিও পি৬০ প্রসেসর, ৩ জিবি র‌্যাম এবং ৩২ জিবি ধারণক্ষমতা। গড়পড়তা ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি হেভি ইউজারদের বিবেচনায় রেখে ফোনটিকে ১৫ টিরও বেশি অ্যাপ্লিকেশন এক সাথে সচল রাখার মতো করে অপ্টিমাইজ করা হয়েছে। অপ্টিমাইজ এমনভাবে করা হয়েছে যেন ফোন গরম হয়ে যাওয়ার হার এবং মাত্রা সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে। ব্যাটারি গড়ে সাধারণ ব্যবহারে ১২ ঘন্টার ব্যাকআপ থাকে, আর হেভি ইউজিংয়ে ৬ ঘন্টার বেশি সচল থাকে।

ক্যামেরা
ফোনটির বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে এর অনবদ্য ক্যামেরা সমূহ। পেছনের দিকে আছে ১৩ এমপি+৫এমপি ডুয়াল ক্যামেরা যা দিনের আলোতে অসাধারণ সব ছবি তুলতে সক্ষম। ক্যামেরার স্পেশাল ফিচার লাইভ বোকের মাধ্যমে নিখুঁত এজ ডিটেকশন করা সম্ভব।
ফ্রন্ট ক্যামেরার কার্যক্ষমতা বেশ ভালো। সেলফিতে উন্নত মানের ছবি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা থাকছে ফোনটিতে। দাম অনুযায়ী ক্যামেরার মান অপেক্ষাকৃত ভালো। নকিয়ার অনন্য সব ফোনের মতো এই ফোনটিও স্টক এন্ড্রোইড ইন্টারফেস ব্যবহার করে।যদিও নকিয়া দাবি করেনি যে ফোনটির ক্যামেরাটিতে এ.আই. ব্যবহার করা হয়েছে, তবে দিনের আলোতে ক্যামেরার অসাধারণ কাজ দেখে তা বিশ্বাস করা কঠিন। ফোনের পেছনে থাকা ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানার নিখুঁত ভাবে কাজ করে। সাশ্রয়ী দামে কেবল এই ফোনেটিতেই আছে ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট, লাউড স্পিকারের সাউন্ডের মান জোরালো। তবে ফোনটির ভাইব্রেটিং এলার্ট অপেক্ষাকৃত কম কম্পন তৈরি করে।

স্পেসিফিকেশন
৫.৮৬ ইঞ্চি আইপিএস পর্দার ১৫২০ বই ৭২০ রেসুল্যশনের সাহায্যে ১৯ : ৯ অনুপাতে ছবি দেখা যাবে। এতে রয়েছে অক্টাকোর হেলিও পি ৬০ প্রসেসর, ৩জিবি র‌্যাম, ৩২ জিবি ধারণক্ষমতা যা বর্ধিত করা যাবে, হাইব্রিড ডুয়াল সিম স্লট , রিয়ার ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানার , ১৩ মেগা পিক্সেল + ৫ মেগা পিক্সেল ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা, ৮ মেগা পিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা, ৪জি ভল টি ই, ওয়াইফাই এসি, ব্লুটুথ , ইউএসবি টাইপ সি , ৩০৬০ এমএএইচ ব্যাটারি, অ্যান্ড্রয়েড ৮.১, ১৬০ গ্রাম।

সর্বোপরি সন্দেহাতীত ভাবে বলা যায় যে দাম বিবেচনায় নকিয়া ৫.১ প্লাস সঠিক পছন্দ ক্রেতাদের জন্য। আকর্ষণীয় বডি সম্বলিত ফোনটি বাহ্যিক সৌন্দের্যের পাশাপাশি পারফরম্যন্সেও এগিয়ে আছে। হ্যান্ডসেটটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২১, ৯৯০ টাকা।