ধূমপান পুরোপুরি ছাড়তে হলে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। ছবি: সংগৃহীত

প্রত্যেক ধূমপায়ীর জীবনে এমন সময় একবার আসে যখন সে চিরতরে ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও এটা কোনো সহজ গন্তব্য নয়। নিকোটিন আসক্তি পার্কে হেঁটে যাওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়। তাই ধূমপান পুরোপুরি ছাড়তে চাইলে আপনাকে অবশ্যই আপনার দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে।

শুরুতেই আপনাকে ধূমপান ছাড়ার কারণগুলোর তালিকা করতে হবে। আপনাকে ভালো করে বুঝতে হবে কোনো বিষয়গুলো এটা ছাড়ার পেছনে আপনাকে প্রেরণা যোগাচ্ছে। যেমন- ধূমপান ছেড়ে আপনি আপনার স্বাস্থ্যের উন্নয়নের দিকে মনোযোগী হতে পারেন। এই কারণগুলো আপনাকে আপনার উদ্দেশ্যের সঙ্গে লেগে থাকতে সহায়তা করবে। তাই যখনই আপনি একটি সিগারেট খাওয়ার আসক্তি অনুভব করবেন, এই কারণগুলি আপনাকে সিদ্ধান্তে অটুট থাকতে সাহায্য করবে। তিনটি সহজ উপায় আছে, এগুলো অবম্বন করলে আপনার জন্য ধূমপান ত্যাগ করা সহজ হবে।

আসক্তিকে প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করুন

হ্যাঁ, একজন ধূমপায়ীর জন্য প্রথম শর্ত হচ্ছে, যখন আপনি একটি সিগারেট খাওয়ার প্রটি আসক্তি অনুভব করবেন তখন নিজেকে সামলে রাখার চেষ্টা করা। এই সিগারেটের আসক্তিকে একটা দৈত্যের সাথে তুলনা করা যায়। আপনি এই দৈত্যকে যত খাদ্য দিবেন, তার খাদ্য আসক্তি তত বৃদ্ধি পাবে। তাই এটাকে দুর্বল করতে চাইলে কম কম করে খাদ্য দেয়ার অভ্যাস করতে হবে।

প্রথমে কঠিন এবং পরে সহজ মনে হবে

এটা দিন দিন খুব কঠিন হয়ে পড়বে যখন আপনি এই দৈত্যকে খাদ্য দেয়া কমিয়ে দিবেন। সে অতিরিক্ত ক্ষুধার্ত অনুভব করবে এবং খাদ্যের জন্যে আপনাকে যন্ত্রণা দিবে। এতে শরীরে বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে, যেহেতু আপনি শরীরের একটি পরিচিত প্যাটার্ন বা কাঠামো ভেঙে ফেলছেন। এটাকে উইথড্রয়াল সিম্পটম বলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনাকে আসক্তি সৃষ্টিকারক দৈত্যকে ক্ষুধার্ত রাখতে হবে।

অবশেষে দৈত্যকে ক্ষুধার্ত রাখুন

এটাই হচ্ছে চূড়ান্ত ধাপ। একবার আপনি স্থিতিস্থাপকতা পেয়ে গেলে, দৈত্যের আসক্তি ধীরে ধীরে বন্ধ হতে থাকবে। এই আসক্তি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে দৈত্যকে ক্ষুধার্ত রাখা। এতে আপনার শরীরে উইথড্রয়ালের আরও তীব্র লক্ষণগুলি প্রকাশ পাবে। কিন্তু এতে ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। আপনার গন্তব্যের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনার সঙ্গে লেগে থাকতে হবে।