ধান মাড়াইয়ে কৃষকরা। ছবি: রংপুর

ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দেশের কৃষকরা যখন ক্ষেতেই পাকা ধানে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে ঠিক তখনই ভারত থেকে হাজার হাজার টন চাল আমদানি করা হচ্ছে।

এতে আমদানিকারক ও ভারতীয় কৃষকরা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের কৃষকরা। সরকারের মন্ত্রীরা যখন বিদেশে চাল রফতানির কথা বলছে ঠিক সে সময় হাজার হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানিকে অনেকে হাস্যকর বলছেন।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে সংকট না থাকা সত্ত্বেও চাল আমদানি করায় বাজারে ধানের দাম আরও কমে যাচ্ছে। মিল মালিকরা বলছেন, বিদেশ থেকে চাল আমদানির ফলে বাজারে এর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। কমছে দেশি চালের দাম ও চাহিদা। আমদানি বন্ধ না হলে কৃষকরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দেশের অন্যতম বৃহৎ দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গত দেড় মাসে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন চাল।

দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এটিএম শফিকুল ইসলাম জানান, গত কয়েক বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের কার্যকর পদক্ষেপে দেশে ধান উৎপাদন অনেক গুণ বেড়েছে।

এ অবস্থায় প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও বিদেশ থেকে চাল আমদানি করা হচ্ছে। এতে কৃষকরা তাদের ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চাল আমদানি বন্ধ না হলে কৃষি অর্থনীতিতে ধস নামবে।

ভারত থেকে এখন যে চাল আসছে তা আতপ। প্রতি কেজি ভারতীয় চালের দাম পড়ছে ২২ টাকা। অথচ সরকার কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংগ্রহ অভিযানে চালের মূল্য ঠিক করেছে ৩৬ টাকা। চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকরা চরম লোকসানের মুখে। লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও পাচ্ছে না কৃষক।

যারা ধান কেটেছেন, তারা পানির দামে ধান বিক্রি করে হতাশ ও বিমর্ষ হয়ে বাড়ি ফিরছেন বাজার থেকে। যারা এখনও ধান কাটেনি, তারা বেশি মজুরি দিয়ে ধান কাটতে সাহস পাচ্ছেন না। দিনাজপুরে বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৫০০-৫৫০ টাকায়।

কৃষকরা বলছেন, এই দামে ধান বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচও উঠছে না। অনেকে বাধ্য হয়ে লোকসানেই ধান বিক্রি করছেন। দিনাজপুর সদরের নশিপুর গ্রামের কৃষক হাফিজউদ্দীন জানান, প্রতিবিঘায় ধানের উৎপাদন খরচ পড়েছে ১৮-১৯ হাজার টাকা। ধান হয়েছে ৩৪ মণ। এক বিঘা জমির ধান বিক্রি করে পেয়েছি ১৭ হাজার টাকা। এভাবে ধানে আমরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি।

আজকের পত্রিকা/এমইউ