কমল দাশ
চট্টগ্রাম ব্যুরো

বোট থেকে নামানোর পর ভ্যানে টুকরির মধ্যে বিক্রির উদ্দেশে সাজাচ্ছেন রূপালি ইলিশ। ছবিটি গতকাল চট্টগ্রাম নগরীর ফিশারিঘাট থেকে তোলা

মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশের আশায় সমুদ্রে গেলেও অন্যান্য মাছ মিললেও আশানুরূপ ইলিশ ধরা পড়ছে না জেলেদের জালে। ভরমৌসুমেও তেমন একটা দেখা ইলিশের ধরতে না পরায় জেলেদের অনেকে হতাশ। জেলেরা এখন তাদের দাদনের টাকা কিভাবে ফেরত দিবেন তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছেন। জেলে ও বোট মালিকদের অনেকের অভিযোগ সমুদ্রসীমা লঙ্ঘন করে ভারতীয় জেলেরা বঙ্গোপসাগরে ঢুকে ইলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আর এতে কোস্টগার্ডের কোন তৎপরতা চোখে পড়ছেনা বলে জানান জেলেরা।

২৮ জুলাই রোববার নগরীর ফিশারী ঘাটের ঘাট মাঝি মো.মোনাফ জানান সরকারের বাইশ দিনের নিষেধাজ্ঞা ঠিক ছিল। কিন্তু আবার দীর্ঘ ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞাটি সঠিক ছিল না। ফলে সময় পার হয়ে যাওয়ায় এবার প্রথম চালানে জেলেদের জালে আশানুরূপ ইলিশ ধরা পড়েনি। পরের চালানে যদি ইলিশের সরবরাহ বাড়ে তাহলে তারা এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করছেন।

এদিকে বোট মালিক মো.আবুল হোসেন জানান একবার মাছ ধরতে গেলে দু-আড়াই লক্ষ টাকা খরচ হয় বোট প্রতি। এখন যে পরিমান মাছ ধরা পড়ছে তাতে খরচের টাকাও উঠে আসবে না। ফলে বোট প্রতি ১ লক্ষ টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করছি। অন্যান্য বছর এদিনে প্রতিবোটে ৫-৬ মন ইলিশ এক চালানে ধরা পড়তো। আর চট্টগ্রামে ইলিশ মাছের সরবরাহ কম হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন,বরিশালে আরকেটি মাছের আড়ত গড়ে উঠেছে। ফলে যেখানে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে সেখান থেকে বরিশালের দূরত্ব কম বিধায় ধরা পড়া ইলিশের বেশির ভাগ চলে যায় সেখানে।

একারণে সরবরাহ কম থাকায় বাজারে ইলিশের দামও আকাশচুম্বি। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় ফিশারিঘাটের পাইকারি বাজারে ১ কেজি ২’শ গ্রাম ওজনের ইলিশ মনপ্রতি ৪০/৪২ ও ৬’শ ৭’শ গ্রাম ইলিশ মনপ্রতি ৩৫/ ৩৬ হাজার হাঁকাচ্ছেন আড়তদাররা। যা খুচরা বাজারে কেজি প্রতি ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে এই ভর মৌসুমেও চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্তের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে রয়েছে এই রূপালি ইলিশ।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস