আসাদুজ্জামান স্বপ্ন
সিনিয়র রিপোর্টার

মাহবুবর রহমান সুমন

ইংরেজি ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন এর সংক্ষেপ রূপ ইভিএম। সহজ বাংলায় ভোট প্রয়োগে মেশিন বা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি অনুসৃত হয় বলে সামগ্রিক প্রক্রিয়াটিকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম বলে। কোথাও কোথাও এই প্রক্রিয়াটিকে ই-ভোটিং নামে পরিচিত। ইভিএম একাধারে সঠিকভাবে ভোট প্রয়োগ ও দ্রুততার সাথে ভোট গণনা করতে সক্ষম। ২০০৭ সালে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের কার্যকরী সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইভিএম যাত্রা শুরু করে। এরপর বুয়েটের আইআইসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এস এম লুৎফল কবির এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পাইল্যাব বাংলাদেশ ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে এই প্রকল্প জমা দেন। কিন্তু সে সময় ছবিসহ ভোটার তালিকা না থাকায় ইভিএম প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ২০০৭ সালের পর ২০১০ সালের ১৭ জুন অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মোট ২৫ হাজার ২৩৮ জন ভোটার ইভিএমে ভোট প্রদান করেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৪ ভোট কেন্দ্রের ৭৯টি বুথে ৭৯টি ও প্রতি কেন্দ্রের জন্য একটি অতিরিক্ত হিসাবে মোট ৯৩টি ইভিএম স্থাপন করা হয়।

ভোট দেওয়ার জন্য বুথের মধ্যে যেয়ে ভোটার দেখবেন ব্যালট ইউনিটের নিচের দিকে একটি সবুজ বাতি জ্বলছে। তারমানে আপনাকে ভোট দিতে বলা যাচ্ছে। ব্যালট ইউনিটের ওপর আপনার আসনের প্রার্থীর নাম ও প্রতীক দেখতে পাবেন সেখানে। প্রত্যেক প্রতীকের পাশে থাকে একটি করে সুইচ। ভোটার তার পছন্দের প্রতীকটির পাশের সুইচটি চাপবেন। ভোট গৃহীত হলে ভোটার ব্যালট ইউনিটের নিচের দিকে থাকা লাল বাতিটি জ্বলতে দেখবেন। তারমানে ভোটটি গৃহীত হয়েছে। ভোটটি গৃহীত হলে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের সামনে রাখা কন্ট্রোল ইউনিটের সামনের ডিসপ্লেতে একটি ভোট যোগ হবে।

একনজরে ইভিএম
* একটি মেশিনে প্রায় চার হাজারটি পর্যন্ত ভোট দেয়া যায়।
* ধারণ ক্ষমতা অনুসারে সর্বোচ্চ ৩৮৪ জন, সর্বনিম্ন ১২ জন প্রার্থীর তালিকা থাকে। তবে ১২ জনের কম প্রার্থী থাকলে ফাঁকা প্রতীকের সুইচগুলো অকার্যকর থাকে।
* একটি ভোট দিতে সময় লাগে মাত্র ১৪ সেকেন্ড।
* একটি মেশিন চালাতে প্রয়োজন হয় ১২ ভোল্টের একটি ব্যাটারি।
* বাটন চাপ দিয়ে অক্ষরজ্ঞানহীন ব্যক্তিও ভোট দিতে পারে।

দেশে দেশে ইভিএম
১৯৬০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম চালু হয় ইভিএম। তবে বড় পরিসরে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬৪ সালে তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৭টি রাজ্যে ইভিএম ব্যবহার করে। এরপর বিভিন্ন দেশের নির্বাচনে বড় কিংবা ছোট পরিসরে ইভিএম এর ব্যবহার বাড়তে থাকে। বর্তমানে আইনগত ভাবে ইভিএম প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা দেশের তালিকায় রয়েছে রাশিয়া,অস্ট্রেলিয়া,আমেরিকা,কানাডা, ফ্রান্স,জাপান, ব্রাজিল,সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভেনিজুয়েলায়,কাজাখিস্তান,পেরু,ফিলিপাইন,রোমানিয়া,এস্তোনিয়া,আয়ারল্যান্ড।
বাংলাদেশের ইভিএম
বাংলাদেশে যে ইভিএম ব্যবহার করা হবে সেটির তিনটি অংশ। এগুলো হলো কন্ট্রোল ইউনিট, ব্যালট ইউনিট ও ডিসপ্লে ইউনিট। কন্ট্রোল ইউনিট থাকে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের সামনের টেবিলে। ব্যালট ইউনিটটি থাকে বুথের ভেতর। এর মাধ্যমে ভোটার তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। আর ডিসপ্লে ইউনিট ইভিএমের সঙ্গে একটি বড় ডিসপ্লে ইউনিট রাখা হয়েছে, যা এমন স্থানে রাখা হয় যাতে বুথের ভেতর ভোট-সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টিগোচর হয়।

ইভিএম এ ব্যায়
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ইসির জন্য প্রথম যে ইভিএম তৈরি করেছিল, তার প্রতিটির দাম সে পড়েছিল ২০-২২ হাজার টাকা। তবে এবারের নির্বাচনে জন্য ইসি যে ইভিএম কিনেছে তার প্রতিটির দাম পড়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৩ টাকা। ভারতের নির্বাচন কমিশন দেশটির লোকসভা, রাজ্যসভাসহ বিভিন্ন নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য নতুন মডেলের ইভিএমের দাম নির্ধারণ করেছে ১৭ হাজার রুপি। যদিও ভারতের ইভিএম আর বাংলাদেশের ইভিএম এর ধারন ক্ষমতা প্রায় পাশাপাশি।
ব্যর্থ ইভিএম
২০১০ সালের ১২ আগস্ট ‘ভারতের ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন জালিয়াতি প্রতিরোধক নয়’ এমন দাবি করে একদল মার্কিন আইটি বিশেষজ্ঞ। সেই দাবিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বেন আডিডা, মাইক্রোসফট গবেষক ড. জোশ বেনালো ও পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাট ব্লেইজ। তারা সে সময় জানিয়েছিলেন, ‘ইভিএম তৈরির পর নতুন ধরনের নিরাপত্তা হামলার বিষয় জানা গেছে ও ইভিএমের নিরাপত্তার বিষয়টি পুরনো হয়ে গেছে। বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী ফলাফলের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও যাচাইযোগ্যতা ভারতীয় ইভিএম দিতে পারে না।’